Tuesday, November 14, 2017

আইনস্টাইনের ধর্ম ও ইশ্বর প্রসঙ্গে

আপনাদের কি মনে পড়ে যে ধর্মীয় জঙ্গিরা, বিশেষ করে ইসলামিগুলো মানে ছাগুরা যে আইনস্টাইনের একটা quote বা উক্তি স্প্যাম করে ধর্মকে বাচাতে, সেটা হচ্ছে
science without religion is lame, religion without science is blind.
মনে পড়ে?
তো এই উক্তিটি আইনস্টাইন আসলে কি বুঝাতে বলেছিলো, তার আগে পরে কি আছে?
জাকির নায়েক OUT OF CONTEXT QUOTING কথাটিকে জনপ্রিয় করেছিলো, কিন্তু তার কথা তার প্রজাতির উপরে একদিন এভাবে ব্যবহৃত হবে, সেটা কি সে ভেবে গিয়েছিলো।
খেলা শুরু
3
.
.
.
.
2
.
.
.
.
1
.
.
.
.
.
.GO
.
.
.
.
.
Now, even though the realms of religion and science in themselves are clearly marked off from each other, nevertheless there exist between the two strong reciprocal relationships and dependencies. Though religion may be that which determines the goal, it has, nevertheless, learned from science, in the broadest sense, what means will contribute to the attainment of the goals it has set up. But science can only be created by those who are thoroughly imbued with the aspiration toward truth and understanding. This source of feeling, however, springs from the sphere of religion. To this there also belongs the faith in the possibility that the regulations valid for the world of existence are rational, that is, comprehensible to reason. I cannot conceive of a genuine scientist without that profound faith. The situation may be expressed by an image: science without religion is lame, religion without science is blind.
সাইন্স উইথআউট এর আগের লাইনগুলো পড়ুন। "science can only be created by those who are thoroughly imbued with the aspiration..........." বিজ্ঞান কেবল তৈরি হতে পারে কেবল তাদের দিয়েই যারা সম্পূর্নভাবে ডুবে আছে সত্যকে খুজার নেশা/চেতনাতে........................
this source of feeling, however, springs from the sphere of religion. এই অনুভূতির উৎস যদিও, ধর্মের "জগত" থেকে উঠে আসে।
খেয়াল করে দেখবেন যে এখানে বলা হয়েছে ধর্মের জগত থেকে উঠে আসা "সত্য খোজার চেতনা" কে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নাম উচ্চারনই হয়নি, ১৪০০ বছর আগের বর্বর খুন ধর্ষনপ্রিয় আরব জাতির ফ্যান্টাসি ধর্ম তো নয়ই।
আঘাত শেষ?
NO
এবার part 2
Though I have asserted above that in truth a legitimate conflict between religion and science cannot exist, I must nevertheless qualify this assertion once again on an essential point, with reference to the actual content of historical religions. This qualification has to do with the concept of God. During the youthful period of mankind's spiritual evolution human fantasy created gods in man's own image, who, by the operations of their will were supposed to determine, or at any rate to influence, the phenomenal world. Man sought to alter the disposition of these gods in his own favor by means of magic and prayer. The idea of God in the religions taught at present is a sublimation of that old concept of the gods. Its anthropomorphic character is shown, for instance, by the fact that men appeal to the Divine Being in prayers and plead for the fulfillment of their wishes.
Nobody, certainly, will deny that the idea of the existence of an omnipotent, just, and omnibeneficent personal God is able to accord man solace, help, and guidance; also, by virtue of its simplicity it is accessible to the most undeveloped mind. But, on the other hand, there are decisive weaknesses attached to this idea in itself, which have been painfully felt since the beginning of history. That is, if this being is omnipotent, then every occurrence, including every human action, every human thought, and every human feeling and aspiration is also His work; how is it possible to think of holding men responsible for their deeds and thoughts before such an almighty Being? In giving out punishment and rewards He would to a certain extent be passing judgment on Himself. How can this be combined with the goodness and righteousness ascribed to Him?
পুরাটা পড়তে না পারলে এই লাইনগুলো দেখুন
//This qualification has to do with the concept of God. During the youthful period of mankind's spiritual evolution human fantasy created gods in man's own image, who, by the operations of their will were supposed to determine, or at any rate to influence, the phenomenal world. Man sought to alter the disposition of these gods in his own favor by means of magic and prayer. The idea of God in the religions taught at present is a sublimation of that old concept of the gods.//
আদিম যুগের আদিম কল্পনা থেকে মানুষ, মানুষের ইমেজ তথা মনোচিত্রে গড বা ইশ্বরগুলো বানিয়েছে (note the plural number, সে এক ইশ্বর বলেনাই)। বর্তমান ইশ্বরের যে আইডিয়া ধর্মগুলোতে শিখানো হয়, সেগুলো সে আদি ইশ্বরগুলোর sublimation মানে পাতিত অবশিষ্টাংশ।
//Nobody, certainly, will deny that the idea of the existence of an omnipotent, just, and omnibeneficent personal God is able to accord man solace, help, and guidance; also, by virtue of its simplicity it is accessible to the most undeveloped mind. But, on the other hand, there are decisive weaknesses attached to this idea in itself, which have been painfully felt since the beginning of history. That is, if this being is omnipotent, then every occurrence, including every human action, every human thought, and every human feeling and aspiration is also His work; how is it possible to think of holding men responsible for their deeds and thoughts before such an almighty Being? In giving out punishment and rewards He would to a certain extent be passing judgment on Himself. How can this be combined with the goodness and righteousness ascribed to Him?//
আনডেভেলপড মাইন্ডের জন্য সর্বক্ষম সর্বজ্ঞানী ইশ্বর? তাও যদি সম্ভব হয়, সেটার জন্য মানুষকে দায়ি করা যাবেনা, এই কথা বলছে আইনস্টাইন।
FATALITY!
.
.
.
.
.
.PERFECT!!
.
.
.
.
.
.
.
.
.
YOU WIN!!!

Wednesday, November 1, 2017

অ্যাজাইলাম, ট্রিট ও ফান্ড প্রসঙ্গে

নাস্তিকতা বিজ্ঞানবাদ মুক্তচিন্তা নিয়ে অ্যাসাইলাম ব্যবসা বা বিদেশে ভিসার ধান্দার অভিযোগ নতুন না এবং ছাগুরা এটার উদ্ভাবক ও প্রচারক। পরবর্তীতে বিভিন্ন নাস্তিক গ্রুপ এই ব্যাপার নিয়ে প্রচার শুরু করে। তবে এটা চিন্তা করবেন যে অ্যাসাইলাম ব্যবসার বীজ রোপন হয় যেদিন নাস্তিকতা মুক্তচিন্তা বিস্তারের জন্য এক লোক আরেক লোককে বন্ধু বানিয়ে চা ট্রিট করে। সূচনা।
প্রথমে চা, তারপরে চা থেকে বিস্কুট, তারপরে বিস্কুট থেকে কেক, তারপরে তা থেকে ফাস্টফুড ও চাইনিজে আপগ্রেড, তারপরে সেখান থেকে বারে আপগ্রেড।
উল্লেখ্য যে অ্যাজাইলাম ব্যবসা ও ট্রিট ব্যবসা নিয়ে নাস্তিকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে।

Wednesday, October 18, 2017

নাস্তিক দিয়ে নাস্তিক কোপানো সমাচার

https://www.facebook.com/nahida.akhter.1426/posts/175085133035252

এই পোস্টটা এখন দেখার আগে নাহিদার সাথে ইনবক্সে যে আলাপটা হয় সেটা করার পরে পোস্টটা দেখে বুঝলাম যে এখন ইস্যুটা নিয়ে একটা পাবলিক এলার্ট পোস্ট করা দরকার তাই আজকে নাহিদার সাথে যা কথা হলো, সেটা এবং গত ৬ বছর ধরে আমি যা বলে এসেছিলাম সেটা প্রকাশ করা দরকার জনসম্মুখে। যা হয় হোক কারন আদর্শ থেকে পিছু হটা আমার আদর্শ না।
ঘটনা হচ্ছে যে নাস্তিকতা বিজ্ঞানবাদ দর্শন জীবনধরন ধর্ম প্রভৃতি "জ্ঞানের শাখা" বিস্তারের জগতটা যেটাকে অনেকে দেখে মনে করতো "কি সুন্দর বই পড়ুয়া জ্ঞানী লোকজন সুন্দর আচরন হবে" বলে মনে করতো, সেটা আসলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির জগত এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভয়ংকরতম এটা, the intelligence sector. ফেসবুক তৈরির বহু, বহু বছর আগে, ৮০ এর দশকের ইউজনেট আমল থেকে, বিভিন্ন জ্ঞান তথ্য আদর্শের ব্যাপারে বিতর্ক যেগুলো চলতো নেটে, সেগুলোতে দেশি ও বিদেশি একাধিক সরকার ও বেসরকারি গ্রুপ ও ব্যক্তিত্ব জড়িত আছে একাধিক লক্ষ্য নিয়ে এবং তাদের মধ্যকার "emperor vs king war" এর অংশে টাকা দিয়ে পেইড সৈন্যের বাইরে "বোকা চেংড়া পোলাপান" ভাড়া করে যাদেরকে মনে করানো হয় যে আপনি যেটার জন্য লড়ছেন সেটাই সঠিক এবং ওটা ধ্বংস হয়ে গেলে the whole universe is going to die (ভেজিটার ভয়েস হবে এখানে)। জিনিসটাতে আন্তর্জাতিক গ্রুপগুলোর বড় রকমের আগ্রহ তৈরি হয় ৯৮ এর ওকলাহোমা বোমা হামলা ও ৯৯ এর কলামবাইন শুটিং এর পরে যখন তারা দেখে যে খুনি হামলাকারীরা নেট জগত থেকে অনুপ্রানিত এবং নেটে কি কি ধরনের লিখা ইংলিশে লিখা হতো। বাংলাভাষীদের জগতে ইন্টারনেটে প্রথম দিকের ব্যবহারকারীগুলো জামাতপন্থি ইসলামি (জামাত গ্রুপকে অন্য মুসলিম গ্রুপরা দেখতে পারেনা, হেফাজত ইসলাম জামাতের mortal enemy) হওয়ায় তাদের দখল বড় আকারে আসে প্রথম দিকগুলোতে, যেটার একটা বড় ধাক্কা আসে ২০১১ সালে আমেরিকার কয়েকটা জায়গাতে ইসলামিক রায়ট বাজানোর চেষ্টা করে ছাগুরা, যে ছাগুদের "আদর" করার মাধ্যমে জানা যায় যে তারা ইসলামি ছাত্রশিবির ও জামাতের বাংলা লেখা দিয়ে অনুপ্রানিত, বাংলাভাষি মুসলিমরা শিবিরের কথাগুলো ইংলিশে অনুবাদ করে অন্যকিছু মডারেট ছাগুদের কড়া বানিয়ে রায়টিং। সেটা আমেরিকার আমর্ড ফোর্সের এক অংশকে আগ্রহি করে আমাদের ভাষার ছাগুদের প্রতি এবং এক কান থেকে এক কান হয়ে পেনটাগন পর্যন্ত যায় বাংলাভাষী ছাগুদের ছ্যাংড়ামি। ছ্যাংড়ামির উপরে নজরদারি ও প্রতিরোধবাহিনি মানে resistance force এর ঝাল আরো শক্তিশালি হয় ২০১৭ সালে প্যারাডকসিকাল সাজিদ স্ক্যান্ডালের পরে, যেটা নিয়ে পশচিমে এই ছাগুরা হামলা করতে গিয়েছিলো বিভিন্ন এলাকাতে।
ছাগুরা এরকম করতে পারে ও করেছে। নাস্তিক ব্লগাররা কি তা করতে পারে? উত্তর হ্যা, পারতো এবং এখনো পারে। কিভাবে? একেক ব্লগারের একেক আদর্শ আছে এবং সে আদর্শ তারা পুরো মাল্টিভার্স মানে যত ইউনিভার্স আছে, সবগুলোতে কায়েম করতে চায়। দেবাশীষ ও সৌরভদের আন্তর্জাতিকতাবাদ দেখুন, তারা চায় বরডার নাই করে সব উন্মুক্ত করে দিতে। উন্মুক্ত বর্ডার নিয়ে stormfront , above top secret প্রমুখ ফোরামে পক্ষবিপক্ষ তর্ক থেকে অস্ত্রহাতে রায়ট হয়েছে, ২০১০ থেকে ১২ তে। পৃথিবীতে একাধিক যে রাষ্ট্র, একেকজনের একেক ইন্টারেস্ট এবং একই জিনিস এক দেশ চায়, আরেকদেশ ঠেকাতে চায়। চাওয়া ও ঠেক চাওয়া, দুই পক্ষই তাদের সম্পদ ব্যবহার করেছে ও করছে প্রচুর পরিমানে সৈন্য তৈরি করতে যা দিয়ে তারা অপরপক্ষকে নাই করে দিবে এবং এ কাজে hollow point bullet সহকারে পিস্তল নিয়ে যুদ্ধে লোক পাঠানোর চেষ্টা করে, যদি তা না পারে, তবে খালি হাতে। ছবিরহাট থাকা অবস্থায় ছবিরহাটের মারামারিগুলো বড় উদাহরন, আজিজ মার্কেটে চাকু হাতে "কবি" "লেখক"দের মারামারি দ্রষ্টব্য। এখন একেকজনের একেক আদর্শগত মারামারিতে আদর্শের ভিন্নতার জায়গা থেকে যারা আজকে নাহিদাকে নিয়ে গালিগালাজ করছে, কাল নাহিদা তার পারিবারিক ক্ষমতা (নাহিদা যে পুলিশকে ঠান্ডা করাতে সক্ষম ফোন দিয়ে, সেটা নিয়ে তার পোস্ট দ্রষ্টব্য) ব্যবহার করে সেসব গালিগালাজকারী কিংবা হামলাকারী বিরোধিদের ঠান্ডা করতে সক্ষম এবং ইচ্ছুক কিনা, সেটা আরেক প্রশ্ন। কথা হচ্ছে, there are some others similar to nahida akhter. not that i am against it, ব্লগ ও লেখালেখির জগতে আইন ও অস্ত্রবাজি দিয়ে বিপরীত আদর্শকে ঠেকানোর পক্ষে বহু আগে থেকে কথা বলা লোকদের একজন আমি নিজে। এই জিনিসটা বড় চিন্তার জায়গা এবং আমি ভবিষ্যতের সবাইকে সতর্ক করে দিতে এই পোস্টটা দিয়েছি যে যারা আদর্শপ্রচারের জগতে ঢুকতে চায়, তারা যেনো CIA, Mi6, NSI, MSS এবং এসবের বাইরে বেসরকারি যত ব্যক্তি ও গ্রুপ আছে ক্ষমতার সাথে জড়িত, তাদের সাথে হয় ফাইট করার ক্ষমতা অথবা ডিল করে বেচে থাকার ক্ষমতাটা অর্জন করে যেনো অন্তত ঢুকে কারন আমি নিজেসহ প্রায় সবাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কিছু মাত্রাতে হলেও জড়িত হয়ে পড়েছে কারন ওয়াচ রাখা হয় বিভিন্ন গ্রুপ থেকে যে অজ পাড়াগার কার পোস্টে ডালাস টেকসাসে আগুন জ্বলতে পারে।
those people doing বদনামি about you? they are involved in the politics. it is mafia and military politics of the highest level and interest.

Tuesday, October 17, 2017

প্যারাডকসিকাল সাজিদের জবাব-৭

পেরা সাজিদ ৭ নাম্বার চেপটারের জবাব। সবার কাছে চ্যালেঞ্জ এর চেয়ে উন্নততর জবাব তৈরির।
//বেশ লোভনীয় শিরোনাম।শারীরিক ক্লান্তি ভুলেই আমি ঘটনাটির প্রথম থেকে পড়া শুরু করলাম।ঘটনাটি সাজিদের ডায়েরিতে যেভাবে লেখা, ঠিক সেভাবেই আমি পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি-
‘কয়েকদিন আগে ক্লাশের থার্ড পিরিয়ডে মফিজুর রহমান স্যার এসে আমাকে দাঁড় করালেন।বললেন,- ‘তুমি ভাগ্যে,আই মিন তাকদিরে বিশ্বাস করো?’
আমি আচমকা অবাক হলাম। আসলে এই আলাপগুলো হলো ধর্মীয় আলাপ। মাইক্রোবায়োলজির একজন শিক্ষক যখন ক্লাশে এসে এসব জিজ্ঞেস করেন, তখন খানিকটা বিব্রত বোধ করাই স্বাভাবিক। স্যার আমার উত্তরের আশায় আমার মুখের দিকে চেয়ে আছেন।
আমি বললাম,- ‘জ্বি, স্যার।এ্যাজ এ্যা মুসলিম, আমি তাকদিরে বিশ্বাস করি।এটি আমার ঈমানের মূল সাতটি বিষয়ের মধ্যে একটি।’
স্যার বললেন,- ‘তুমি কি বিশ্বাস করো যে, মানুষ জীবনে যা যা করবে তার সবকিছুই তার জন্মের অনেক অনেক বছর আগে তার তাকদিরে লিখে দেওয়া হয়েছে?’
– ‘জ্বি স্যার’- আমি উত্তর দিলাম।
– ‘বলা হয়, স্রষ্টার ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটি ক্ষুদ্র পাতাও নড়েনা, তাই না?’
– ‘জ্বি স্যার।’
– ‘ধরো, আজ সকালে আমি একজন লোককে খুন করলাম। এটা কি আমার তাকদিরে পূর্ব নির্ধারিত ছিলো না?’
– ‘জ্বি, ছিলো।’
– ‘আমার তাকদির যখন লেখা হচ্ছিলো, তখন কি আমি জীবিত ছিলাম?’
– ‘না, ছিলেন না।’
– ‘আমার তাকদির কে লিখেছে? বা, কার নির্দেশে লিখিত হয়েছে?’
– ‘স্রষ্টার।’
– ‘তাহলে, সোজা এবং সরল লজিক এটাই বলে- ‘আজ সকালে যে খুনটি আমি করেছি, সেটি মূলত আমি করি নি।আমি এখানে একটি রোবট মাত্র।আমার ভেতরে একটি প্রোগ্রাম সেট করে দিয়েছেন স্রষ্টা।সেই প্রোগ্রামে লেখা ছিলো যে, আজ সকালে আমি একজন লোককে খুন করবো।সুতরাং, আমি ঠিক তাই-ই করেছি, যা আমার জন্য স্রষ্টা পূর্বে ঠিক করে রেখেছেন।এতে আমার কোন হাত নেই।ডু ইউ এগ্রি,সাজিদ?’
– ‘কিছুটা’- আমি উত্তর দিলাম।
স্যার এবার হাসলেন।হেসে বললেন,- ‘আমি জানতাম তুমি কিছুটাই একমত হবে,পুরোটা নয়।এখন তুমি আমাকে নিশ্চই যুক্তি দেখিয়ে বলবে,- স্যার, স্রষ্টা আমাদের একটি স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন।আমরা এটা দিয়ে ভালো-মন্দ বিচার করে চলি,রাইট?’
– ‘জ্বি স্যার।’
– ‘কিন্তু সাজিদ, এটা খুবই লেইম লজিক,ইউ নো? ধরো, আমি তোমার হাতে বাজারের একটি লিষ্ট দিলাম।লিষ্টে যা যা কিনতে হবে, তার সবকিছু লেখা আছে।এখন তুমি বাজার করে ফিরলে।তুমি ঠিক তাই তাই কিনলে যা আমি লিষ্টে লিখে দিয়েছি।এবং তুমি এটা করতে বাধ্য।’
এতটুকু বলে স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন,- ‘বুঝতে পারছো?’
আমি বললাম,- ‘জ্বি স্যার।’
– ‘ভেরি গুড! ধরো, তুমি বাজার করে আসার পর, একজন জিজ্ঞেস করলো, সাজিদ কি কি বাজার করেছো? তখন আমি উত্তর দিলাম,- ‘ওর যা যা খেতে মন চেয়েছে, তা-ই তা-ই কিনেছে। বলতো, আমি সত্য বলেছি কিনা?’
আমি বললাম,- ‘নাহ, আপনি মিথ্যা বলেছেন।’
স্যার চিৎকার করে বলে উঠলেন,- ‘এক্সাক্টলি। ইউ হ্যাভ গট দ্য পয়েণ্ট,মাই ডিয়ার।আমি মিথ্যা বলেছি।আমি লিষ্টে বলেই দিয়েছি তোমাকে কি কি কিনতে হবে।তুমি ঠিক তা-ই তা-ই কিনেছো যা আমি কিনতে বলেছি।যা কিনেছো সব আমার পছন্দের জিনিস। এখন আমি যদি বলি,- ‘ওর যা যা খেতে মন চেয়েছে,সে তা-ই তা-ই কিনেছে’, তাহলে এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা,না?’
– ‘জ্বি,স্যার।’
– ‘ঠিক স্রষ্টাও এভাবে মিথ্যা বলেছেন।দুই নাম্বারি করেছেন। তিনি অনেক আগে আমাদের তাকদির লিখে তা আমাদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন।এখন
আমরা সেটাই করি, যা স্রষ্টা সেখানে লিখে রেখেছেন।আবার, এ্যাট দ্য এন্ড অফ দ্য ডে, এই কাজের জন্য কেউ জান্নাতে যাচ্ছে, কেউ জাহান্নামে।কিন্তু কেনো? এখানে মানুষের তো কোন হাত নেই।ম্যানুয়ালটা স্রষ্টার তৈরি। আমরা তো জাষ্ট পারফর্মার।স্ক্রিপ্ট রাইটার তো স্রষ্টা।স্রষ্টা এরজন্য আমাদের কাউকে জান্নাত,কাউকে জাহান্নাম দিতে পারেন না। যুক্তি তাই বলে,ঠিক?’
আমি চুপ করে রইলাম। পুরো ক্লাশে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে তখন।
স্যার বললেন,- ‘হ্যাভ ইউ এ্যানি প্রপার লজিক অন দ্যাট টিপিক্যাল কোয়েশ্চান,ডিয়ার?’
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম।
স্যার মুচকি হাসলেন। মনে হলো- উনি ধরেই নিয়েছেন যে, উনি আমাকে এবার সত্যি সত্যিই কুপোকাত করে দিয়েছেন।বিজয়ীর হাসি।
আমাকে যারা চিনে তারা জানে, আমি কখনো কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে সময় নিই না।আজকে যেহেতু তার ব্যতিক্রম ঘটলো, আমার বন্ধুরা আমার দিকে ড্যাব ড্যাব চোখ করে তাকালো।তাদের চাহনি দেখে মনে হচ্ছিলো, এই সাজিদকে তারা চিনেই না।কোনদিন দেখে নি।
আর, ক্লাশে আমার বিরুদ্ধ মতের যারা আছে, তাদের চেহারা তখন মূহুর্তেই উজ্জ্বল বর্ণ ধারন করলো।তারা হয়তো মনে মনে বলতে লাগলো,- ‘মোল্লার দৌঁড় অই মসজিদ পর্যন্তই।হা হা হা’।
আমি মুখ তুলে স্যারের দিকে তাকালাম।মুচকি হাসিটা স্যারের মুখে তখনও বিরাজমান।
আমি বললাম,- ‘স্যার, এই ক্লাশে কার সম্পর্কে আপনার কি অভিমত?’
স্যার ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন। স্যার জিজ্ঞেস করেছেন কি আর আমি বলছি কি।
স্যার বললেন,- ‘বুঝলাম না।’
– ‘মানে, আমাদের ক্লাশের কার মেধা কি রকম, সে বিষয়ে আপনার কি ধারনা?’
– ‘ভালো ধারনা। ছাত্রদের সম্পর্কে একজন শিক্ষকেরই তো সবচেয়ে ভালো জ্ঞান থাকে।’
আমি বললাম,- ‘স্যার, আপনি বলুন তো, এই ক্লাশের কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে?’
স্যার কিছুটা বিস্মিত হলেন। বললেন,- ‘আমি তোমাকে অন্য বিষয়ে প্রশ্ন করেছি।তুমি ‘আউট অফ কনটেক্সট’ এ গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছো,সাজিদ।’
– ‘না স্যার, আমি কনটেক্সটেই আছি। আপনি উত্তর দিন।’
স্যার বললেন,- ‘এই ক্লাশ থেকে রায়হান, মমতাজ, ফারহানা, সজীব, ওয়ারেশ, ইফতি, সুমন,জাবেদ এবং তুমি ফাষ্ট ক্লাশ পাবে। আর বাকিরা সেকেন্ড ক্লাশ।’
স্যার যাদের নাম বলেছেন, তারা সবাই ক্লাশের ব্রিলিয়্যাণ্ট ষ্টুডেণ্ট।সুতরাং, স্যারের অনুমান খুব একটা ভুল না।
আমি বললাম,- ‘স্যার, আপনি এটা লিখে দিতে পারেন?’
– ‘Why not’- স্যার বললেন।
এই বলে তিনি খচখচ করে একটা কাগজের একপাশে যারা ফাষ্ট ক্লাশ পাবে তাদের নাম, অন্যপাশে যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে,তাদের নাম লিখে আমার হাতে দিলেন।
আমি বললাম,- ‘স্যার, ধরে নিলাম যে আপনার ভবিষ্যৎবাণী সম্পূর্ণ সত্য হয়েছে।মানে, আপনি ফাষ্ট ক্লাশ পাবে বলে যাদের নাম লিখেছেন,তারা সবাই ফাষ্ট ক্লাশ পেয়েছে,আর যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে লিখেছেন, তাদের সবাই সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে।’
– ‘হুম, তো?’
– ‘এখন, স্যার বলুন তো, যারা ফাষ্ট ক্লাশ পেয়েছে, আপনি এই কাগজে তাদের নাম লিখেছেন বলেই কি তারা ফাষ্ট ক্লাশ পেয়েছে?’
– ‘নাহ তো।’
– ‘যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে বলে আপনি এই কাগজে লিখেছেন বলেই কি তারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে?’
স্যার বললেন,- ‘একদম না।’
– ‘তাহলে মূল ব্যাপারটি কি স্যার?’
স্যার বললেন,- ‘মূল ব্যাপার হলো, আমি তোমাদের শিক্ষক।আমি খুব ভালো জানি পড়াশুনায় তোমাদের কে কেমন।আমি খুব ভালো করেই জানি, কার কেমন মেধা। সুতরাং, আমি চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারি কে কেমন রেজাল্ট করবে।’
আমি হাসলাম। বললাম,- ‘স্যার, যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা যদি আপনাকে দোষ দেয়? যদি বলে, আপনি ‘সেকেন্ড ক্লাশ’ ক্যাটাগরিতে তাদের নাম লিখেছেন বলেই তারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে?’
স্যার কপালের ভাঁজ লম্বা করে বললেন,- ‘ইট উড বি টোট্যালি বুলশিট! আমি কেন এর জন্য দায়ী হবো? এটা তো সম্পূর্ণ তাদের দায়। আমি শুধু তাদের মেধা,যোগ্যতা সম্পর্কে ধারনা রাখি বলেই অগ্রিম বলে দিতে পেরেছি যে কে কেমন রেজাল্ট করবে।’
আমি আবার জোরে জোরে হাসতে লাগলাম। পুরো ক্লাশ আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে।
আমি থামলাম।বললাম,- ‘স্যার, তাকদির তথা ভাগ্যটাও ঠিক এরকম। আপনি যেমন আমাদের মেধা, যোগ্যতা,ক্ষমতা সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখেন, স্রষ্টাও তেমনি তার সৃষ্টি সম্পর্কে ধারনা রাখেন।আপনার ধারনা মাঝে মাঝে ভুল হতে পারে, কিন্তু স্রষ্টার ধারনায় কোন ভুল নেই।স্রষ্টা হলেন আলিমুল গায়েব।তিনি ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব জানেন।
আপনি যেরকম আমাদের সম্পর্কে পূর্বানুমান করে লিখে দিয়েছেন যে, আমাদের মধ্যে কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ পাবে, আর কারা সেকেন্ড ক্লাশ।এর মানে কিন্তু এই না যে, আপনি বলেছেন বলে আমাদের কেউ ফাষ্ট ক্লাশ পাচ্ছি, কেউ সেকেন্ড ক্লাশ।
স্রষ্টাও সেরকম পূর্বানুমান করে আমাদের তাকদির লিখে রেখেছেন।তাতে লেখা আছে দুনিয়ায় আমরা কে কি করবো।এর মানেও কিন্তু এই না যে, তিনি লিখে দিয়েছেন বলেই আমরা কাজগুলো করছি।বরং, এর মানে হলো এই- তিনি জানেন যে, আমরা দুনিয়ায় এই এই কাজগুলো করবো।তাই তিনি তা অগ্রিম লিখে রেখেছেন তাকদির হিসেবে।
আমাদের মধ্যে কেউ ফাষ্ট ক্লাশ আর কেউ সেকেন্ড ক্লাশ পাবার জন্য যেমন কোনভাবেই আপনি দায়ী নন, ঠিক সেভাবে, মানুষের মধ্যে কেউ ভালো কাজ করে জান্নাতে, আর কেউ খারাপ কাজ করে জাহান্নামে যাবার জন্যও স্রষ্টা দায়ী নন।স্রষ্টা জানেন যে, আপনি আজ সকালে একজনকে খুন করবেন।
তাই তিনি সেটা আগেই আপনার তাকদিরে লিখে রেখেছেন।এটার মানে এই না যে- স্রষ্টা লিখে রেখেছে বলেই আপনি খুনটি করেছেন।এর মানে হলো- স্রষ্টা জানেন যে,আপনি আজ খুনটি করবেন।তাই সেটা অগ্রিম লিখে রেখেছেন আপনার তাকদির হিসেবে।
স্যার, ব্যাপারটা কি এখন পরিষ্কার?
স্যারের চেহারাটা কিছুটা ফ্যাকাশে মনে হলো। তিনি বললেন,- ‘হুম।’
এরপর স্যার কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন।তারপর বললেন,- ‘আমি শুনেছিলাম তুমি ক’দিন আগেও নাস্তিক ছিলে।তুমি আবার আস্তিক হলে কবে?’
আমি হা হা হা করে হাসলাম। বললাম,- ‘এই প্রশ্নটা কিন্তু স্যার আউট অফ কনটেক্সট।’
এটা শুনে পুরো ক্লাশ হাসিতে ফেঁটে পড়লো।
পিরিওডের একদম শেষদিকে, স্যার আবার আমাকে দাঁড় করালেন।বললেন,- ‘বুঝলাম স্রষ্টা আগে থেকে জানেন বলেই লিখে রেখেছেন।তিনি যেহেতু আগে থেকেই জানেন কে ভালো কাজ করবে আর কে খারাপ কাজ করবে, তাহলে পরীক্ষা নেওয়ার কি দরকার? যারা জান্নাতে যাওয়ার তাদের জান্নাতে, যারা জাহান্নামে যাওয়ার তাদের জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেই তো হতো,তাই না?’
আমি আবার হাসলাম। আমার হাতে স্যারের লিখে দেওয়া কাগজটি তখনও ধরা ছিলো।আমি সেটা স্যারকে দেখিয়ে বললাম,- ‘স্যার, এই কাগজে কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ পাবে, আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে, তাদের নাম লেখা আছে। তাহলে এই কাগজটির ভিত্তিতেই রেজাল্ট দিয়ে দিন।বাড়তি করে পরীক্ষা নিচ্ছেন কেনো?’
স্যার বললেন,- ‘পরীক্ষা না নিলে কেউ হয়তো এই বলে অভিযোগ করতে পারে যে,- ‘স্যার আমাকে ইচ্ছা করেই সেকেন্ড ক্লাশ দিয়েছে।পরীক্ষা দিলে আমি হয়তো ঠিকই ফাষ্ট ক্লাশ পেতাম।’
আমি বললাম,- ‘একদম তাই,স্যার। স্রষ্টাও এইজন্য পরীক্ষা নিচ্ছেন,যাতে কেউ বলতে না পারে- দুনিয়ায় পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে আমি অবশ্যই আজকে জান্নাতে থাকতাম। স্রষ্টা ইচ্ছা করেই আমাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছে।’
ক্লাশের সবাই হাত তালি দিতে শুরু করলো। স্যার বললেন,- ‘সাজিদ, আই হ্যাভ এ্যা লাষ্ট কোয়েশ্চান।’
– ‘ডেফিনেইটলি, স্যার।’- আমি বললাম।
– ‘আচ্ছা, যে মানুষ পুরো জীবনে খারাপ কাজ বেশি করে,সে অন্তত কিছু না কিছু ভালো কাজ তো করে,তাই না?’
– ‘জ্বি স্যার।’
– ‘তাহলে, এই ভালো কাজগুলোর জন্য হলেও তো তার জান্নাতে যাওয়া দরকার,তাই না?’
আমি বললাম,- ‘স্যার, পানি কিভাবে তৈরি হয়?’
স্যার আবার অবাক হলেন। হয়তো বলতে যাচ্ছিলেন যে, এই প্রশ্নটাও আউট অফ কনটেক্সট, কিন্তু কি ভেবে যেন চুপসে গেলেন।বললেন,- ‘দুই ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেনের সংমিশ্রণে।’
আমি বললাম,- ‘আপনি এক ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেন দিয়ে পানি তৈরি করতে পারবেন?’
– ‘কখনোই না।’
– ‘ঠিক সেভাবে, এক ভাগ ভালো কাজ আর এক ভাগ মন্দ কাজে জান্নাত পাওয়া যায়না। জান্নাত পেতে হলে হয় তিন ভাগই ভালো কাজ হতে হবে, নতুবা দুই ভাগ ভালো কাজ, এক ভাগ মন্দ কাজ হতে হবে। অর্থাৎ, ভালো কাজের পাল্লা ভারি হওয়া আবশ্যক।’
সেদিন আর কোন প্রশ্ন স্যার আমাকে করেন নি।’
এক নিশ্বাঃসে পুরোটা পড়ে ফেললাম।কোথাও একটুও থামিনি। পড়া শেষে যেই মাত্র সাজিদের ডায়েরিটা বন্ধ করতে যাবো, অমনি দেখলাম, পেছন থেকে সাজিদ এসে আমার কান মলে ধরেছে।সে বললো,- ‘তুই তো সাংঘাতিক লেভেলের চোর।’
আমি হেসে বললাম,- ‘হা হা হা। স্যারকে তো ভালো জব্দ করেছিস ব্যাটা।’
কথাটা সে কানে নিলো বলে মনে হলো না।নিজের সম্পর্কে কোন কমপ্লিমেন্টই সে আমলে নেয় না। গামছায় মুখ মুছতে মুছতে সে খাটের উপর শুয়ে পড়লো।
আমি তার কাঁধে হাত রাখলাম। বললাম,- ‘সাজিদ……’
– ‘হু’
– ‘একটা কথা বলবো?’
– ‘বল।’
– ‘জানিস, একসময় যুবকেরা হিমু হতে চাইতো।হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে, মরুভূমিতে গর্ত খুঁড়ে জ্যোৎস্না দেখার স্বপ্ন দেখতো।দেখিস,এমন একদিন আসবে, যেদিন যুবকেরা সাজিদ হতে চাইবে। ঠিক তোর মতো……’
এই বলে আমি সাজিদের দিকে তাকালাম।দেখলাম, ততক্ষণে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। অঘোর ঘুম……..//
এই অধ্যায় লেখক কুরানের কথার উল্টা কথাকে কুরানের নামে চালানোর এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে সর্বদ্রষ্টা না, অনুমানের ভিত্তিতে চলা মানুষ (স্যার) এর সাথে সর্বদ্রষ্টা আল্লাহ এর তুলনা করে "মিল" দেখিয়েছে। এটা ১০০% শিরক। আর কুরানের কোন কথাকে বিকৃত করলো? কুরানে একাধিক আয়াত এবং হাদিসে লেখা যে আল্লাহ সবকিছু, এমনকি আখিরাতে কে কোন অবস্থানে যাবে, ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি ৬, বিকাল ৪:৩২ মিনিটে কি করেছি, তাসহ লিখে রেখেছে ও তার একচুল নড়বড় হবেনা, এই হিসাবে স্বাধীন ইচ্ছার অস্তিত্ব নেই। নেই!!!!
প্রমান করো যে হা-জাত যা লিখেছে তাই সত্য এবং আসলে সে কুরান বিকৃতি ও শিরকি করেনি।

প্যারাডকসিকাল সাজিদের জবাব-৬

পেরা সাজিদ ৬ নাম্বার চেপটারের জবাব। সবার কাছে চ্যালেঞ্জ এর চেয়ে উন্নততর জবাব তৈরির।
//মফিজুর রহমান স্যার। এই ভদ্রলোক ক্লাশে আমাকে উনার শত্রু মনে করেন। ঠিক শত্রু না, প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়।
আমাকে নিয়ে উনার সমস্যা হলো- উনি উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে, ক্লাশের ছেলে-মেয়েদের মনে ধর্ম, ধর্মীয় কিতাব, আল্লাহ, রাসূল ইত্যাদি
নিয়ে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেবার চেষ্টা করেন।কিন্তু, আমি প্রতিবারই উনার এহেন কাজের প্রতিবাদ করি।উনার যুক্তির বীপরিতে যুক্তি দিই। এমনও হয়েছে, যুক্তিতে আমার কাছে পরাজিত হয়ে উনি ক্লাশ থেকেও চলে গিয়েছিলেন কয়েকবার।
এই কারনে এই বামপন্থি লোকটা আমাকে উনার চক্ষুশূল মনে করেন।
সে যাকগে! আজকের কথা বলি।
আজকে ক্লাশে এসেই ভদ্রলোক আমাকে খুঁজে বের করলেন। বুঝতে পেরেছি, নতুন কোন উছিলা খুঁজে পেয়েছে আমাকে ঘায়েল করার।
ক্লাশে আসার আগে মনে হয় পান খেয়েছিলেন। ঠোঁটের এক কোণায় চুন লেগে আছে।
আমাকে দাঁড় করিয়ে বড় বড় চোখ করে বললেন,- ‘বাবা আইনষ্টাইন, কি খবর?’
ভদ্রলোক আমাকে তাচ্ছিল্য করে ‘আইনষ্টাইন’ বলে ডাকেন। আমাকে আইনষ্টাইন ডাকতে দেখে উনার অন্য শাগরেদবৃন্দগণ হাসাহাসি শুরু করলো।
আমি কিছু না বলে চুপ করে আছি। তিনি আবার বললেন,- ‘শোন বাবা আইনষ্টাইন, তুমি তো অনেক বিজ্ঞান জানো, বলো তো দেখি, সূর্য কি পানিতে ডুবে যায়?’
ক্লাশ স্তিমিত হয়ে গেলো। সবাই চুপচাপ।
আমি মাথা তুলে স্যারের দিকে তাকালাম। বললাম,- ‘জ্বি না স্যার। সূর্য কখনোই পানিতে ডুবে না।’
স্যার অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বললেন,- ‘ ডুবে না? ঠিক তো?’
– ‘জ্বি স্যার।’
– ‘তাহলে সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় কেন হয় বাবা? বিজ্ঞান কি বলে?’
আমি বললাম, – ‘স্যার, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ঘুরে।সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরার সময়, পৃথিবী গোলার্ধের যে অংশটা সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, সে অংশে তখন সূর্যোদয় হয়, দিন থাকে। ঠিক একইভাবে, পৃথিবী গোলার্ধের যে অংশটা তখন সূর্যের বীপরিত দিকে মুখ করে থাকে, তাতে তখন সূর্যাস্ত হয়, রাত নামে।আদতে, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় বলে কিছু নেই।সূর্য অস্তও যায় না। উদিতও হয়না। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারনে আমাদের এমনটি মনে হয়।’
স্যার বললেন,- ‘বাহ! সুন্দর ব্যাখ্যা।’
উনি আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন,- ‘তা বাবা, এই ব্যাপারটার উপর তোমার আস্থা আছে তো? সূর্য পানিতে ডুবে-টুবে যাওয়া তে বিশ্বাস-টিশ্বাস করো কি?’
পুরো ক্লাশে তখনও পিনপতন নিরবতা।
আমি বললাম,- ‘না স্যার। সূর্যের পানিতে ডুবে যাওয়া-টাওয়া তে আমি বিশ্বাস করিনা।’
এরপর স্যার বললেন,- ‘বেশ! তাহলে ধরে নিলাম, আজ থেকে তুমি আর কোরআনে বিশ্বাস করো না।’
স্যারের কথা শুনে আমি খানিকটা অবাক হলাম।পুরো ক্লাশও সম্ভবত আমার মতোই হতবাক।স্যার মুচকি হেসে বললেন,- ‘তোমাদের ধর্মীয় কিতাব, যেটাকে আবার বিজ্ঞানময় বলে দাবি করো তোমরা, সেই কোরআনে আছে, সূর্য নাকি পানিতে ডুবে যায়। হা হা হা।’
আমি স্যারের মুখের দিকে চেয়ে আছি। স্যার বললেন, – ‘কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো? দাঁড়াও, পড়ে শোনাই।’
এইটুক বলে স্যার কোরআনের সূরা কাহাফের ৮৬ নাম্বার আয়াতটি পড়ে শোনালেন-
‘(চলতে চলতে) এমনিভাবে তিনি (জুলকারনাঈন) সূর্যের অস্তগমনের জায়গায় গিয়ে পৌঁছুলেন, সেখানে গিয়ে তিনি সূর্যকে (সাগরের) কালো পানিতে ডুবে যেতে দেখলেন।তার পাশে তিনি একটি জাতিকেও (বাস করতে) দেখলেন, আমি বললাম, হে জুলকারনাঈন! (এরা আপনার অধীনস্ত),আপনি
ইচ্ছা করলে (তাদের) শাস্তি দিতে পারেন, অথবা তাদের আপনি সদয়ভাবেও গ্রহণ করতে পারেন।’
এরপর বললেন,- ‘দেখো, তোমাদের বিজ্ঞানময় ধর্মীয় কিতাব বলছে যে, সূর্য নাকি সাগরের কালো পানিতে ডুবে যায়। হা হা হা। বিজ্ঞানময় কিতাব বলে কথা।’
ক্লাশের কেউ কেউ, যারা স্যারের মতোই নাস্তিক, তারা হো হো করে হেসে উঠলো। আমি কিছুই বললাম না।চুপ করে ছিলাম।’

এইটুকুই লেখা। আশ্চর্য! সাজিদ মফিজুর রহমান নামের এই ভদ্রলোকের কথার কোন প্রতিবাদ করলো না? সে তো এরকম করে না সাধারণত। তাহলে কি…….? আমার মনে নানা ধরনের প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি দিতে লাগলো সেদিন।

এর চারমাস পরের কথা।
হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় সাজিদ আমাকে এসে বললো,- ‘আগামিকাল ডিপার্টমেণ্ট থেকে ট্যুরে যাচ্ছি। তুইও সাথে যাচ্ছিস।’
আমি বললাম, – ‘আমি? পাগল নাকি? তোদের ডিপার্টমেন্ট ট্যুরে আমি কিভাবে যাবো?’
– ‘সে ভাবনাটা আমার। তুকে যা বললাম, জাষ্ট তা শুনে যা।’
পরদিন সকাল বেলা বেরুলাম।তার ফ্রেন্ডদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলো সাজিদ।স্যারেরাও আছেন। মফিজুর রহমান নামের ভদ্রলোকটির সাথেও দেখা হলো। বিরাট গোঁফওয়ালা। এই লোকের পূর্বপুরুষ সম্ভবত ব্রিটিশদের পিয়নের কাজ করতো।
যাহোক, আমরা যাচ্ছি বরিশালের কুয়াকাটা।
পৌঁছাতে পাক্কা চারঘণ্টা লাগলো।
সারাদিন অনেক ঘুরাঘুরি করলাম। স্যারগুলোকে বেশ বন্ধুবৎসল মনে হলো।
ঘড়িতে সময় তখন পাঁচটা বেজে পঁচিশ মিনিট। আমরা সমুদ্রের কাছাকাছি হোটেলে আছি।আমাদের সাথে মফিজুর রহমান স্যারও আছেন।
তিনি সবার উদ্দেশ্যে বললেন,- ‘গাইজ, বি রেডি! আমরা এখন কুয়াকাটার বিখ্যাত সূর্যাস্ত দেখবো।তোমরা নিশ্চয় জানো, এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্র সৈকত, যেখান থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।’
আমরা সবাই প্রস্তুত ছিলাম আগে থেকেই। বেরুতে যাবো, ঠিক তখনি সাজিদ বলে বসলো,- ‘স্যার, আপনি সূর্যাস্ত দেখবেন?’
স্যার বললেন,- ‘Why not! How can I miss such an amazing moment?’
সাজিদ বললো,- ‘স্যার, আপনি বিজ্ঞানের মানুষ হয়ে খুব অবৈজ্ঞানিক কথা বলছেন। এমন একটি জিনিস আপনি কি করে দেখবেন বলছেন, যেটা আদতে ঘটেই না।’
এবার আমরা সবাই অবাক হলাম।যে যার চেয়ার টেনে বসে পড়লাম। সাজিদ দাঁড়িয়ে আছে।
স্যার কপালের ভাঁজ দীর্ঘ করে বললেন,- ‘What do u want to mean?’
সাজিদ হাসলো। হেসে বললো,- ‘স্যার, খুবই সোজা। আপনি বলছেন, আপনি আমাদের নিয়ে সূর্যাস্ত দেখবেন। কিন্তু স্যার দেখুন, বিজ্ঞান বুঝে এমন লোক মাত্রই জানে, সূর্য আসলে অস্ত যায়না। পৃথিবী গোলার্ধের যে অংশ সূর্যের বীপরিত মুখে অবস্থান করতে শুরু করে, সে অংশটা আস্তে আস্তে অন্ধকারে ছেঁয়ে যায় কেবল। কিন্তু সূর্য তার কক্ষপথেই থাকে।উঠেও না, ডুবেও না। তাহলে স্যার, সূর্যাস্ত কথাটা তো ভুল, তাই না?’
এবার আমি বুঝে গেছি আসল ব্যাপার। মজা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।
মফিজুর রহমান নামের লোকটা একরাশ বিরক্তি নিয়ে বললো,- ‘দেখো সাজিদ, সূর্য যে উদিত হয়না আর অস্ত যায়না, তা আমি জানি। কিন্তু, এখান থেকে দাঁড়ালে আমাদের কি মনে হয়? মনে হয়, সূর্যটা যেনো আস্তে আস্তে পানির নিচে ডুবে যাচ্ছে।এটাই আমাদের চর্মচক্ষুর সাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। তাই, আমরা এটাকে সিম্পলি, ‘সূর্যাস্ত’ নাম দিয়েছি।বলার সুবিধের জন্যও এটাকে ‘সূর্যাস্ত’ বলাটা যুক্তিযুক্ত। দেখো, যদি আমি বলতাম,- ‘ছেলেরা, একটুপর পৃথিবী গোলার্ধের যে অংশে বাংলাদেশের অবস্থান, সে অংশটা সূর্যের ঠিক বীপরিত দিকে মুখ নিতে চলেছে। তারমানে, এখানে এক্ষুনি আঁধার ঘনিয়ে সন্ধ্যা নামবে।আমাদের সামনে থেকে সূর্যটা লুকিয়ে যাবে।চলো, আমরা সেই দৃশ্যটা অবলোকন করে আসি’,
আমি যদি এরকম বলতাম, ব্যাপারটা ঠিক বিদঘুটে শোনাতো। ভাষা তার মাধুর্যতা হারাতো।শ্রুতিমধুরতা হারাতো। এখন আমি এক শব্দেই বুঝিয়ে দিতে পারছি আমি কি বলতে চাচ্ছি, সেটা।’
সাজিদ মুচকি হাসলো। সে বললো,- ‘স্যার, আপনি একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। বিজ্ঞান পড়েন, বিজ্ঞান পড়ান। আপনি আপনার সাধারন চর্মচক্ষু দিয়ে দেখতে পান যে- সূর্যটা ডুবে যাচ্ছে পানির নিচে। এই ব্যাপারটাকে আপনি সুন্দর করে বোঝানোর জন্য যদি ‘সূর্যাস্ত’ নাম দিতে পারেন, তাহলে সূরা কাহাফে জুলকারনাঈন নামের লোকটি এরকম একটি সাগর পাড়ে এসে যখন দেখলো- সূর্যটা পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, সেই ঘটনাকে যদি আল্লাহ তা’য়ালা সবাইকে সহজে বুঝানোর জন্য, সহজবোধ্য করার জন্য, ভাষার শ্রুতিমধুরতা ধরে রাখার জন্য, কুলি থেকে মজুর, মাঝি থেকে কাজি, ব্লগার থেকে বিজ্ঞানি,ডাক্তার থেকে ইঞ্জিনিয়ার, ছাত্র থেকে শিক্ষক, সবাইকে সহজে বুঝানোর জন্য যদি বলেন- ‘
‘(চলতে চলতে) এমনিভাবে তিনি (জুলকারনাঈন) যখন সূর্যের অস্তগমনের জায়গায় গিয়ে পৌঁছুলেন, সেখানে গিয়ে তিনি সূর্যকে (সাগরের) কালো পানিতে ডুবে যেতে দেখলেন’,
তখন কেনো স্যার ব্যাপারটা অবৈজ্ঞানিক হবে? কোরান বলেনা যে, সূর্য পানির নিচে ডুবে গেছে। কোরান এখানে ঠিক সেটাই বলেছে, যেটা জুলকারনাঈন দেখেছে, এবং বুঝেছে। আপনি আমাদের সূর্যাস্ত দেখাবেন বলছেন মানে এই না যে- আপনি বলতে চাচ্ছেন সূর্যটা আসলেই ডুবে যায়।আপনি সেটাই বোঝাতে চাচ্ছেন, যেটা আমরা বাহ্যিকভাবে দেখি।তাহলে, একই ব্যাপার আপনি পারলে, কোরান কেন পারবে না স্যার?
আপনারা কথায় কথায় বলেন,- ‘The Sun rises in the east & sets in the west’ এগুলা নাকি Universal Truth..
কিভাবে এগুলো চিরন্তন সত্য হয় স্যার, যেখানে সূর্যের সাথে উঠা-ডুবার কোন সম্পর্কই নাই?
কিন্তু এগুলো আপনাদের কাছে অবৈজ্ঞানিক নয়। আপনারা কথায় কথায় সূর্যোদয়, সূর্যাস্তের কথা বলেন। অথচ, সেইম কথা কোরান বললেই আপনারা চিৎকার করে বলে উঠেন- কোরান অবৈজ্ঞানিক। কেন স্যার?’
সাজিদ একনাগাড়ে এতসব কথা বলে গেলো। স্যারের মুখটা কিছুটা পানসে দেখা গেলো। তিনি বললেন,- ‘দীর্ঘ চারমাস ধরে, এরকম সুযোগের অপেক্ষা করছিলে তুমি, মি. আইনষ্টাইন?’
আমরা সবাই হেসে দিলাম।
সাজিদও মুচকি হাসলো। বড় অদ্ভুত সে হাসি।।//
পুরাটাই মিথ্যা। প্রথমেই "বামপন্থী নাস্তিক যে হারে" এরকম একটা ফিকশন এনে তা দিয়ে পাঠকের মনকে ইসলামমুখী করানোর কুমির রচনা। তারপরে শুরু কুরানের ভুল অনুবাদ। যে আয়াতের কথা বলা হলো, সেটার আসল অনুবাদ abdullah yusuf ali original বা william pickthall বা আরবি ভাষার নেটিভরা কি অনুবাদ করবে, সেটার সাথে মিলিয়ে দেখুক। প্রমান করুক যে হা-রিপের অনুবাদটা সঠিক, বাকিসব ভুয়া। এরপরে আরো শুরু হলো দিক অর্থাৎ cardinal point শিখাতে বানানো উদাহরনকে আসল উদাহরন হিসাবে ব্যবহারের জোচ্চুরি। হা-রিপ গ্রুপ এটা বুঝতে অক্ষম যে দিকগুলো মানুষের বানানো নাম এবং সেগুলো ব্যবহার করা হয় দিক বুঝাাতে যাতে করে এরকম ঘটনা না হয় যে হা-রিপ যেটাকে পূর্ব বলে, সৈকত সেটাকে দক্ষিন বলে। কুরানের ঐ আয়াতের অনুবাদে কোনো জায়গায় "মনে হলো ডুবছে" নেই সবখানেই আছে "অস্তাচলে গিয়ে ডুবতে দেখলেন"। go ahead, learn original arabic and translate yourself.
additionally, সহীহ বুখারী volume 4, book 52, hadith 54 এ লেখা সুর্য প্রতিদিন অস্ত যাবার পরে আল্লার আরশের তলায় গিয়ে সারারাত সিজদা দেয়। তার মনে পৃথিবীর অপরপ্রান্তে থাকা সুর্যটি TARDIS (ডক্টর হু এর ফ্যানরা কথাটা কোন পর্ব থেকে নেওয়া, তা বুঝবেন)

প্যারাডকসিকাল সাজিদের জবাব-৫

পেরা সাজিদ ৫ নাম্বার চেপটারের জবাব। সবার কাছে চ্যালেঞ্জ এর চেয়ে উন্নততর জবাব তৈরির।
//স্যার বলেই যাচ্ছেন ধর্ম আর স্রষ্টার অসারতা নিয়ে।

এবার সাজিদ দাঁড়ালো। স্যারের কথার মাঝে সে বললো,- ‘স্যার, সৃষ্টিকর্তা একচোখা নন। তিনি মানুষের ভালো কাজের ক্রেডিট নেন না। তিনি ততোটুকুই নেন, যতোটুকু তিনি পাবেন।ইশ্বর আছেন।’
স্যার সাজিদের দিকে একটু ভালোমতো তাকালেন।বললেন,- ‘শিওর?’
– ‘জ্বি।’
– ‘তাহলে মানুষের মন্দ কাজের জন্য কে দায়ী?’
– ‘মানুষই দায়ী।- সাজিদ বললো।
– ‘ভালো কাজের জন্য?’
– ‘তাও মানুষ।’
স্যার এবার চিৎকার করে বললেন,- ‘এক্সাক্টলি, এটাই বলতে চাচ্ছি। ভালো/মন্দ এসব মানুষেরই কাজ।সো, এর সব ক্রেডিটই মানুষের।এখানে স্রষ্টার কোন হাত নেই। সো, তিনি এখান থেকে না প্রশংসা পেতে পারেন, না তিরস্কার।সোজা কথায়, স্রষ্টা বলতে কেউই নেই।’
ক্লাশে পিনপতন নিরবতা। সাজিদ বললো,- ‘মানুষের ভালো কাজের জন্য স্রষ্টা অবশ্যই প্রশংসা পাবেন, কারন, মানুষকে স্রষ্টা ভালো কাজ করার জন্য দুটি হাত দিয়েছেন, ভালো জিনিস দেখার জন্য দুটি চোখ দিয়েছেন, চিন্তা করার জন্য মস্তিষ্ক দিয়েছেন, দুটি পা দিয়েছেন। এসবকিছুই স্রষ্টার দান।তাই ভালো কাজের জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাবেন।’
স্যার বললেন,- ‘এই গুলো দিয়ে তো মানুষ খারাপ কাজও করে, তখন?’
– ‘এর দায় স্রষ্টার নয়।’
– ‘হা হা হা হা। তুমি খুব মজার মানুষ দেখছি।হা হা হা হা।’//
এবার লেখক কুরান ও হাদিসের উল্টাকথা বলা শুরু করলো। যেখানে কুরান ও হাদিসে আরবি ভাষায় স্পষ্ট করে লিখা যে মানুষ যা কিছু করে, সবকিছু আল্লাহর দিয়ে নির্ধারিত এবং একচুলও হেরফের নাই, গাছের পাতা পর্যন্ত, সেখানে সাজিদকে দিয়ে বলাচ্ছে যে মানুষের ভালো কাজের জন্য স্রষ্টা প্রশংসা পাবে কিন্তু খারাপ কাজের জন্য স্রষ্টার দায় নাই। একেতো ইসলামধর্মের বিকৃতি, তার উপরে দ্বিমুখী নীতি, the paradox of law যে "ভালো কাজ আমি করলে সব প্রশংসা আমার কিন্তু খারাপ কাজ আমি করলেও দায় আমার না।" ঠিক কোন পর্যায়ে মুসলমানদের এখন নামতে হচ্ছে স্বয়ং কুরানের উল্টা কথাকে ইসলাম নামে চালাতে।
//সাজিদ বললো,- ‘স্যার, স্রষ্টা মানুষকে একটি স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন।এটা দিয়ে সে নিজেই নিজের কাজ ঠিক করে নেয়। সে কি ভালো করবে, না মন্দ।’
স্যার তিরস্কারের সুরে বললেন, – ‘ধর্মীয় কিতাবাদির কথা বাদ দাও,ম্যান। কাম টু দ্য পয়েণ্ট এন্ড বি লজিক্যাল।’//
অথচ কুরান তো বলে যে মানুষ যা কিছু করেছে, করছে ও করবে, সব আল্লাহ নির্ধারন করে দিয়েছে ও স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু নেই।
(ব্যাকগ্রাউন্ডে মিস্টার বিনের হাসির সাউন্ডট্র্যাক বাজবে)

বিবর্তন নিয়ে মিথ্যাচার ধরে আমার জবাব

Rajnikanth Reddy এর পুরাতন পরিকল্পনা ও আমার বর্তমান চেষ্টাতে মুমিনবানির জবাবে তৈরি আরেক কপিপেস্ট। এটা ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে কয়েকজনের মাধ্যমে ব্যবহার হতে দেখেছেন, তাদের ক্রেডিট আছে এটা তৈরিতে, আমি এটাতে কিছু পরিবর্তন এনেছি। বিবর্তন নিয়ে মুমিনদের মিথ্যাচারের জবাবে এটি।
ইসলামধর্ম বিবর্তনকে মিথ্যা বলে। বিবর্তন বলে যে কার্বনের সাথে কার্বন মিলে তৈরি হওয়া লং চেইন ও তাতে হাইড্রোজেন অক্সিজেন নাইট্র্রোজেন যুক্ত হয়ে তৈরি হওয়া জৈব যৌগের রাসায়নিক বন্ধন পরিবেশ অনুযায়ী বদল হয় ও তার ফলে জীবের জিনেটিক কোড বংশ থেকে বংশে বদলায়। উল্লেখ্য যে মুমিনরা ছবি স্প্যাম করে যে ছবিতে দেখায় যে বিবর্তনের ফলে এক প্রানি থেকে আরেক প্রানি বংশগতভাবে তৈরি হওয়াটা হচ্ছে অনেকগুলো ভাংগা বা স্ক্র্যাপ ধাতু থেকে কম্পিউটার তৈরি হয়ে যাবার মত, যা সম্পূর্ণ ভুল তুলনা।
ভুল তুলনা এজন্য যে স্ক্র্যাপ ধাতুর উপাদান অ্যালুমিনিয়াম কপার আয়রন এসব মৌলের মধ্যে catenation ক্যাটেনেশন নামক বৈশিষ্ট্যটি নেই, কেবল কারবনের মধ্যে ক্যাটেনেশন আছে যার ফলে কার্বন কার্বন জোড়া লেগে লম্বা চেইন অণু তৈরি হতে পারে যাদের সাথে উপরে বর্নীত মৌল মিলে জৈব যৌগ তৈরি হয়। প্রথমেই মগজে এটা ঢুকাতে হবে।
যারা বলে বিবর্তনবাদ মিথ্যাচার, তাদের এটা দেখা উচিত যে পৃথিবীর তাবৎ নদী ও সমুদ্রে সব জীবের যত বর্জ্য ও মৃতদেহ যায়, তা পরিবেশ অনুযায়ী ভেঙ্গে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিনত হয় ও সে অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত হয়ে সরল প্রান তথা জীবানুগুলো তৈরি হয়, যেগুলো সব মাছের খাবার হয়, আবার এসব জীবানুগুলো তাদের বিবর্তন হয়ে জটিলতর জীবানু ও প্রানিতে পরিনত হয়, যা প্রতিদিন প্রতিমুহুর্তেই ঘটছে। কোন সমুদ্র ও নদীতে কতটুকু জীবানু আছে তা সে জায়গার উর্বরতা মানে কত পরিমান মাছের খাদ্য আছে, তার একটা হিসাব যেটা মেরিন বায়োলজি ল্যাবগুলোতে করতেই হয়। তাহলে এবার কি বিবর্তনবিরোধীরা এটাকেও মিথ্যা বলবে? নাকি এই সত্যপ্রচার ঠেকাতে মেরিন বায়োলজি ল্যাবগুলোতে হামলা করবে?
উল্লেখ্য যে বিবর্তন যদি না ঘটতো তাহলে বর্তমান যুগে আদি প্রান জীবানুগুলো আদৌ পাওয়া যেতোনা কারন বিবর্তনে তাদের উৎপত্তিই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে হয়।
যারা ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন তুলে যে বানর ও মানুষ প্রকৃতিতে এত আছে কেনো যদি বানর থেকে মানুষ হয়, তাদের অবগতির জন্য, বানর থেকে মানুষ হয়নি। এটা হচ্ছে বিবর্তনের বিরুদ্ধে খৃষ্টানদের তৈরিকৃত মিথ্যাচার এবং এটা মুসলমানরা চুরি করেছে তাদের জিহাদের জন্য। বানর ও মানুষ বিবর্তনীয় কাজিন এবং তাদের বিবর্তনীয় কমন পূর্বপুরুষ যে এপ ছিলো সেটা বিলুপ্ত, কেবল ফসিল আছে। আরো বড় কথা হচ্ছে মাঝপথের বহু প্রানির ফসিল তথা transitional fossil বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে বর্তমান পর্যন্ত আবিস্কার হয়েই যাচ্ছে, মানে মধ্যবর্তী ফসিল না পাওয়ার কথাটিও মিথ্যা।

Thursday, April 6, 2017

হোমো ডিউস - আগামির এক সাময়িক ইতিহাস

১. নতুন মনুষ্য লক্ষ্য
তৃতীয় সহস্রাব্দের সূচনাকালে, মানবজাতি জেগে উঠে, তার অঙ্গগুলো প্রসারন করে এবং চোখগুলো ঘষে। কিছু দুঃসহ দুঃস্বপ্নের অবশিষ্টাংশ তখনো তার মনে ভেসে বেড়াচ্ছে। “ওখানে কিছু একটা ছিলো, কাটাতারের বেড়া এবং বড় আকারের ব্যাঙের ছাতাকৃতি মেঘসহকারে। যাই হোক, এটা স্বপ্ন ছিলো।” বাথরুমে গিয়ে, মানবজাতি তার মুখ ধুলো, তার ভাজগুলো আয়নাতে দেখলো, এককাপ কফি বানালো এবং ডায়রি খুললো। “দেখি আমাদের লক্ষ্যে কি আছে আজ।”
হাজারখানেকবছর ধরে এই প্রশ্নের উত্তর অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। একই তিন সমস্যা আগে থেকে জড়িয়ে রেখেছে বিংশ শতাব্দীর চীন, মধ্যযুগীয় ভারত এবং প্রাচীন মিশরকে। দুর্ভিক্ষ, মড়ক এবং যুদ্ধ সবসময়ে তালিকার উপরে ছিলো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ প্রার্থনা করেছে প্রত্যেক ইশ্বর, স্বর্গদূত এবং দরবেশদের কাছে, এবং আবিষ্কার করেছে অগনিত যন্ত্র, সংস্থা এবং সামাজিক প্রথা - কিন্তু তারা মরতেই থাকলো, মিলিয়ন পরিমানে, দুর্ভিক্ষ, মড়ক ও হিংস্রতা থেকে। বহু চিন্তাবিদ ও নবীরা উপসংহারে পৌছায় যে দুর্ভিক্ষ, মড়ক এবং যুদ্ধ অবশ্যই ইশ্বরের পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ অথবা আমাদের অনুৎকৃষ্ট প্রকৃতির, এবং সময়ের শেষপ্রান্ত ছাড়া অন্যকিছুই তাদের ঠেকাবে না।
অথচ, তৃতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে, মানবজাতি জেগে উঠলো এক আশ্চর্যজনক উপলদ্ধির মধ্যে। অধিকাংশ জনগন বিরল পরিমানে চিন্তা করে ব্যাপারটা নিয়ে, কিন্তু গত কয়েক দশকে আমরা দুর্ভিক্ষ, মড়ক এবং যুদ্ধে লাগাম দিতে পেরেছি। অবশ্যই, এই সমস্যাগুলো সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি, কিন্তু তারা পরিবর্তিত হয়েছে, বোধঅযোগ্য ও নিয়ন্ত্রনঅযোগ্য প্রাকৃতিক বল থেকে ব্যবস্থাযোগ্য প্রতিপক্ষে। এদের হাত থেকে রেহাই পেতে আমাদের দরকার পড়েনা কোনো ইশ্বর বা দরবেশের কাছে প্রার্থনা করতে। আমরা বেশ ভালো জানি যে দুর্ভিক্ষ, মড়ক ও যুদ্ধ রোধ করতে কি করা লাগবে - এবং আমরা সাধারনত তাতে সফল হই।
সত্য, এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা আছে; কিন্তু যখন এরকম ব্যর্থতার সম্মুখীন হই, আমরা আর কাধ ঝাড়িনা এবং বলিনা, “ভালো, এভাবেই সবকিছু কাজ করে আমাদের অনুৎকৃষ্ট জগতে।” অথবা “ইশ্বরের ইচ্ছায় সব হবে।” বরং, যখন দুর্ভিক্ষ, মড়ক অথবা যুদ্ধ আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে ভেংগে বের হয়ে যায়, আমরা অনুভব করি যে কেউ হয়তো ভুল ফালিয়েছে, আমরা তদন্ত কমিশন গঠন করি এবং নিজেদের শপথ নেই যে পরবর্তীকালে আমরা এর চেয়ে বেশি ভালো করবো।এবং তা আসলেই কাজ করে। এরকম বিপর্যয় আসলেই ঘটে আরো কম বারবার। ইতিহাসে প্রথম বার, কম খেয়ে মরা লোকের চেয়ে বেশি খেয়ে মরা লোকের সংখ্যা বেশি; সংক্রামক রোগে মরার চেয়ে বুড়া হয়ে মরে বেশি; এবং সৈন্যের হাতে হত্যা হবার চেয়ে বেশি লোক আত্মহত্যা করছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, গড় সংখ্যক মানুষের সম্ভাবনা বেশি ম্যাকডোনাল্ডসে খাওয়ার প্রতিযোগীতায় মরা, খরা ইবোলা আল কায়েদার হাতে মরার তুলনায়।
তাই যদিও প্রেসিডেন্ট, সিইও, জেনারেলদের দৈনিক সময়সূচী অর্থনৈতিক সংকট ও সামরিক সংকটে ভরপূর, ইতিহাসের মহাজাগতিক মাত্রাতে মানবজাতি তার চোখ তুলে নতুন দিগন্তের দিকে তাকাতে পারবে। আমরা যদি আসলেই দুর্ভিক্ষ, মড়ক এবং যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রনে আনছি, মানবজাতির লক্ষ্যতালিকার উপরের দিকে তাদেরকে কারা প্রতিস্থাপন করবে? অগ্নিকান্ড বিহীন বিশ্বে দমকলকর্মীদের মতোই, একবিংশ শতাব্দীতে মানবজাতি তার নিজেকে এক পূর্বপ্রস্তুতিহীন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেই হবে: আমরা নিজেদের নিয়ে কি করবো? একটি স্বাস্থ্যবান, সমৃদ্ধশালী ও সহবস্থানময় জগতে, কি আমাদের মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তাকে আকর্ষন করবে? এই প্রশ্ন দ্বিগুন জরুরি হয়ে পড়ে, জৈবপ্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের যে কড়া নতুন ক্ষমতা দিচ্ছে, তার হিসাবে।আমরা কি করবো এত ক্ষমতা দিয়ে?

Thursday, March 9, 2017

প্যারাডকসিকাল সাজিদের জবাব-৪

পেরা সাজিদ ৪ নাম্বার চেপটারের জবাব। সবার কাছে চ্যালেঞ্জ এর চেয়ে উন্নততর জবাব তৈরির।
"সাজিদ বললো,- ‘যে মূহুর্তে আমরা যুক্তির শর্ত ভাঙবো, ঠিক সেই মূহুর্তে যুক্তি আর যুক্তি থাকবে না।যেটা তখন হবে কু-যুক্তি। ইংরেজিতে বলে- logical fallacy. সেটা তখন আত্মবিরোধের জন্ম দেবে, বুঝেছেন?’
– ‘হ্যাঁ।’- লোকটা বললো।
– ‘আপনি প্রশ্ন করেছেন স্রষ্টার শক্তি নিয়ে। তার মানে, প্রাথমিকভাবে আপনি ধরে নিলেন যে, একজন স্রষ্টা আছেন, রাইট?’
– ‘হ্যাঁ।’
– ‘এখন স্রষ্টার একটি অন্যতম গুণ হলো- তিনি অসীম, ঠিক না?’
– ‘হ্যাঁ, ঠিক।’
– ‘এখন আপনি বলেছেন, স্রষ্টা এমনকিছু বানাতে পারবে কিনা, যেটা স্রষ্টা তুলতে পারবে না। দেখুন, আপনি নিজেই বলেছেন, এমনকিছু, আই মিন something, রাইট?’
– ‘হ্যাঁ।’
– ‘আপনি ‘এমনকিছু’ বলে আসলে জিনিসটার একটা আকৃতি, শেইপ,আকার বুঝিয়েছেন, তাই না? যখনই something ব্যবহার করেছেন, তখন মনে মনে সেটার একটা শেইপ আমরা চিন্তা করি, করি না?’
– ‘হ্যাঁ, করি।’
– ‘আমরা তো এমন কিছুকেই শেইপ বা আকার দিতে পারি, যেটা আসলে সসীম, ঠিক?’
– ‘হ্যাঁ, ঠিক।’
– ‘তাহলে এবার আপনার প্রশ্নে ফিরে যান। আপনি ধরে নিলেন যে স্রষ্টা আছে।স্রষ্টা থাকলে তিনি অবশ্যই অসীম।এরপর আপনি তাকে এমন কিছু বানাতে বলছেন যেটা সসীম।যেটার নির্দিষ্ট একটা মাত্রা আছে,আকার আছে,আয়তন আছে। ঠিক না?’
– ‘হ্যাঁ।’
– ‘পরে শর্ত দিলেন, তিনি সেটা তুলতে পারবে না।দেখুন,আপনার প্রশ্নে লজিকটাই ঠিক নেই। একজন অসীম সত্বা একটি সসীম জিনিস তুলতে পারবে না, এটা তো পুরোটাই লজিকের বাইরের প্রশ্ন। খুবই হাস্যকর না? আমি যদি বলি, উসাইন বোল্ট কোনদিনও দৌঁড়ে ৩ মিটার অতিক্রম করতে পারবে না, এটা কি হাস্যকর ধরনের যুক্তি নয়?’
সজিব নামের লোকটা এবার কিছু বললেন না। চুপ করে আছেন।"
গল্পের লাইনগুলোতে বিদ্যমান যুক্তির নামে মিথ্যাচার অর্থাৎ fallacy টা যেহেতু ছাগুরা নিজেরা দেখতে পাবেনা, তাই তাদের জন্য বলে দেওয়া হচ্ছে, লেখক একরকম "চাইপ্পা দৃশ্য স্কৃপ্ট ঠেলা" এর কাজ করলো যেখানে সে এরকম মিথ্যাচার দিতে চাইছে যে অউত্তোলনীয় বস্তু তৈরি করে সেটাকে উত্তোলনের প্রশ্নে বস্তুটার একটা আকার আকৃতি থাকতে হবে, যা বাস্তবে অর্থাৎ চিন্তার জায়গাতে গেলে আদৌ দরকারই না। আকার আকৃতিহীন অউত্তোলনীয় অর্থাৎ এমন বস্তু যার আকার আকৃতি নেই কিন্তু তৈরি করে উত্তোলন করা যাবেনা, তা দিয়েও প্রশ্ন হয়, কিন্তু লেখক আরিফ সেটা বলবেনা কারন সেটা বললে ওর নিজের কুযুক্তি সেখানেই ধরা। OH WAIT, আমি তো ধরা খাইয়েই দিলাম। যুক্তিবিদ্যায় এরকম মিথ্যাবাজিকে বলা হয় false equivalence. পরস্পর বিচ্ছিন্ন অর্থাৎ discrete ব্যাপারকে "পরস্পর সম্পর্কিত তুলনীয়" হিসাবে প্রচার।
"সাজিদ মুচকি হাসলো। বললো,- ‘আসলে সর্বশক্তিমান মানে এই না যে, তিনি যখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।সর্বশক্তিমান মানে হলো- তিনি নিয়মের মধ্যে থেকেই সবকিছু করতে পারেন।নিয়মের বাইরে গিয়ে তিনি কিছু করতে পারেন না।করতে পারেন না বলাটা ঠিক নয়, বলা উচিত তিনি করেন না। এর মানে এই না যে- তিনি সর্বশক্তিমান নন বা তিনি স্রষ্টা নন।
এর মানে হলো এই- কিছু জিনিস তিনি করেন না, এটাও কিন্তু তার স্রষ্টা হবার গুণাবলি। স্রষ্টা হচ্ছেন সকল নিয়মের নিয়ন্ত্রক।এখন তিনি নিজেই যদি নিয়মের বাইরের হন- ব্যাপারটি তখন ডাবলষ্ট্যান্ড হয়ে যায়।স্রষ্টা এরকম নন। তার কিছু বৈশিষ্ট্য আছে।তিনি সেই বৈশিষ্টগুলো অতিক্রম করেন না।সেগুলো হলো তার মোরালিটি।এগুলো আছে বলেই তিনি স্রষ্টা, নাহলে তিনি স্রষ্টা থাকতেন না।’
সাজিদের কথায় এবার আমি কিছুটা অবাক হলাম।আমি জিজ্ঞেস করলাম- ‘স্রষ্টা পারেনা এমন কি কাজ থাকতে পারে?’
সাজিদ আমার দিকে ফিরলো। ফিরে বললো,- ‘স্রষ্টা কি মিথ্যা কথা বলতে পারে? ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারে? ঘুমাতে পারে? খেতে পারে?’
আমি বললাম,- ‘আসলেই তো।’
সাজিদ বললো,- ‘এগুলো স্রষ্টা পারেন না বা করেন না।কারন, এগুলা স্রষ্টার গুণের সাথে কন্ট্রাডিক্টরি।কিন্তু এগুলো করেন না বলে কি তিনি সর্বশক্তিমান নন? না। তিনি এগুলো করেন না,কারন, এগুলা তার মোরালিটির সাথে যায় না।’
এবার লোকটি প্রশ্ন করলো,- ‘কিন্তু এমন জিনিস তিনি বানাতে পারবেন না কেন, যেটা তিনি তুলতে পারবেন না?’
সাজিদ বললো,- ‘কারন, স্রষ্টা যদি এমন জিনিস বানান, যেটা তিনি তুলতে পারবেন না- তাহলে জিনিসটাকে অবশ্যই স্রষ্টার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হতে হবে।
স্রষ্টা যে মূহুর্তে এরকম জিনিস বানাবেন, সেই মূহুর্তেই তিনি স্রষ্টা হবার অধিকার হারাবেন।তখন স্রষ্টা হয়ে যাবে তারচেয়ে বেশি শক্তিশালী ওই জিনিসটি।কিন্তু এটা তো স্রষ্টার নীতি বিরুদ্ধ। তিনি এটা কিভাবে করবেন?’
লোকটা বললো,- ‘তাহলে এমন জিনিস কি থাকা উচিত নয় যেটা স্রষ্টা বানাতে পারলেও তুলতে পারবে না?’
– ‘এমন জিনিস অবশ্যই থাকতে পারে, তবে যেটা থাকা উচিত নয়, তা হলো- এমন প্রশ্ন।’"
এখন আরিফ আজাদ স্বয়ং কুরান ও হাদিস বিকৃত করে ফেললো তার ইসলামকে প্রচার করতে। যেখানে কুরানে আয়াতই আছে যেখানে আল্লাহ নিজেকে "সর্বোত্তম ধুরন্দরবাজ" হিসাবে ঘোষনা দিয়াছে, আরবি শব্দটার সরাসরি অনুবাদ করলে দাড়ায় "সর্বোত্তম প্রতারক/মিথ্যুক" সেখানে আরিফ প্রচার করছে যে স্রষ্টা বা আল্লাহ সর্বশক্তিমান মানে "এই না যে সে সবকিছু করতে পারবে।" এখানে সে কুরানে বর্নীত এবং কুরানের বাইরে যত ধর্ম ও দর্শন আছে, সব অনুযায়ী সর্বশক্তিমানের যে "সংগা", সেটাই উল্টে ফেলে যা "সর্বশক্তিমান না" তাকে "সর্বশক্তিমান" হিসাব চালাচ্ছে। এখন আরিফ আজাদকে কুরান বিকৃতির দায়ে কেনো কতল করা হবেনা?
"সাজিদ বললো,- ‘ফাইনালি আপনাকে একটি প্রশ্ন করি। আপনার কাছে দুটি অপশান। হয় ‘হ্যাঁ’ বলবেন, নয়তো- ‘না’।আমি আবারো বলছি, হয় হ্যাঁ বলবেন, নয়তো- না।’
লোকটা বললো,- ‘আচ্ছা।’
– ‘আপনি কি আপনার বউকে পেটানো বন্ধ করেছেন?’
লোকটি কিছুক্ষন চুপ মেরে ছিলো।এরপর বললো,- ‘হ্যাঁ।’
এরপর সাজিদ বললো,- ‘তার মানে আপনি একসময় বউ পেটাতেন?’
লোকটা চোখ বড় বড় করে বললো,- আরে, না না।’
এবার সাজিদ বললো,- ‘হ্যাঁ’ নাহলে কি? না?’
লোকটা এবার ‘না’ বললো।’
সাজিদ হাসতে লাগলো। বললো- ‘তার মানে আপনি এখনো বউ পেটান?’
লোকটা এবার রেগে গেলো। বললো,- ‘আপনি ফাউল প্রশ্ন করছেন।আমি কোনদিন বউ পেটায়নি।এটা আমার নীতি বিরুদ্ধ।
সাজিদ বললো,- ‘আপনিও স্রষ্টাকে নিয়ে একটি ফাউল প্রশ্ন করেছেন। এটা স্রষ্টার নীতি বিরুদ্ধ।"
আরো কতবড় মিথ্যাচার ও কথার প্রতারনা, দেখুন। লোকটি বউ কোনোদিন না পেটালে "আপনি বউ পেটানো বন্ধ করেছেন" প্রশ্নের উত্তর হতো "আমি বউ কিবে পিটাতাম?/ বউ পিটানোর কথা কিভাবে আসলো?" সেখানে আরিফের স্কৃপ্টে "আপনি বউ পেটানো বন্ধ করেছেন" প্রশ্নে লোকটি উত্তর দিলো "হ্যা" মানে YES. এবার জিনিসটা এভাবে চিন্তা করেন পাঠকবৃন্দ। আপনারা আমাকে প্রশ্ন করলেন "আমি পর্ন দেখা বন্ধ করেছি কিনা?"। আমি যদি অতীতে পর্ন কোনোদিন না দেখতাম, তাহলে বলতাম "আমি কবে পর্ন দেখতাম?" কিন্তু আমি যদি বলি "হ্যা করেছি।" তার মানে অবশ্যই, ১০০% এটাই যে আমি অতীতে পর্ন দেখতাম,কারন না দেখলে দেখা বন্ধ করার প্রশ্নটাই আসতো না।

প্যারাডকসিকাল সাজিদের জবাব-৩

পেরা সাজিদ ৩ নাম্বার চেপটারের জবাব। সবার কাছে চ্যালেঞ্জ এর চেয়ে উন্নততর জবাব তৈরির।
"সাজিদ বললো,- ‘খালু, ইতিহাস থেকে আমরা আরো জানতে পারি, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে চতুর্থ আমেনহোটেপের আগে যেসকল শাসকেরা মিশরকে শাসন করেছে, তাদের সবাইকেই ‘রাজা’ বলে ডাকা হতো। কিন্তু, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে চতুর্থ আমেনহোটেপের পরে যেসকল শাসকেরা মিশরকে শাসন করেছিলো, তাদের সবাইকে ‘ফেরাঊন’ বলে ডাকা হতো। ঈউসুফ আঃ মিশরকে শাসন করেছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতকের চতুর্থ আমেনহোটেপের আগে।আর, মূসা আঃ মিশরে জন্মলাভ করেছিলেন চতুর্থ আমেনহোটেপের কমপক্ষে আরো দু’শো বছর পরে।অর্থাৎ, মূসা আঃ যখন মিশরে জন্মগ্রহন করেন, তখন মিশরের শাসকদের আর ‘রাজা’ বলা হতো না, ‘ফেরাঊন’ বলা হতো।’
– ‘হুম, তো?’
– ‘কিন্তু খালু, কোরানে ঈউসুফ আঃ এবং মূসা আঃ দুইজনের কথাই আছে। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, কোরান ঈউসুফ আঃ এর বেলায় শাসকদের ক্ষেত্রে ‘রাজা’ শব্দ ব্যবহার করলেও, একই দেশের, মূসা আঃ এর সময়কার শাসকদের বেলায় ব্যবহার করেছে ‘ফিরাঊন’ শব্দটি। বলুন তো খালু, মরুভূমির বালুতে উট চরানো বালক মুহাম্মদ সাঃ ইতিহাসের এই পাঠ কোথায় পেলেন? তিনি কিভাবে জানতেন যে, ঈউসুফ আঃ এর সময়ের শাসকদের ‘রাজা’ বলা হতো, মূসা আঃ সময়কার শাসকদের ‘ফেরাঊন’? এবং, ঠিক সেই মতো শব্দ ব্যবহার করে তাদের পরিচয় দেওয়া হলো?’
মহব্বত আলি নামের ভদ্রলোকটি হো হো হো করে হাসতে লাগলো। বললো,- ‘মূসা আর ঈউসুফের কাহিনী তো বাইবেলেও ছিলো। মুহাম্মদ সেখান থেকে কপি করেছে, সিম্পল।’
সাজিদ মুচকি হেসে বললো,- ‘খালু, ম্যাটার অফ সরো দ্যাট, বাইবেল এই জায়গায় চরম একটি ভুল করেছে। বাইবেল ঈউসুফ আঃ এবং মূসা আঃ দুজনের সময়কার শাসকদের জন্যই ‘ফেরাঊন’ শব্দ ব্যবহার করেছে, যা ঐতিহাসিক ভুল। আপনি চাইলে আমি আপনাকে বাইবেলের ওল্ড টেষ্টামেণ্ট থেকে প্রমান দেখাতে পারি।’
লোকটা কিছুই বললো না। চুপ করে আছে। সম্ভবত, উনার প্রমান দরকার হচ্ছে না।"
এখন হা-রিপ মিথ্যা ইতিহাস শেখানো শুরু করেছে। যেখানে বাস্তব সত্য হলো আমেনহোটেপ এর আগে যত "রাজা" ছিলো, তাদেরকেও ফেরাউন বলে ডাকা হতো। wikipedia article on pharaoh, amenhotep iv পড়ে দেখুন।
মুহাম্মাদ উম্মি ছিলোনা। মুসলমানদের স্বয়ং বুখারি হাদিসই বলে যে মুহাম্মদ চিঠি লিখতো, তাও হুমকিওয়ালা চিঠি, নিজের হাতে। মুসলমানরা কতবড় চুতিয়া হলে হাদিস বিকৃতি করে নিজেদের বাচাতে। বাইবেলিয় জোসেফ (কুরানি ইউসুফ) ও মোজেস (কুরানি মুসা) দুইটার সময়কালই ছিলো ফেরাউন ফারাও বংশের আমল। তাতে কি দাড়ালো? কুরানের ভুল, বাইবেলের বেশি।
"সাজিদ আবার বলতে লাগলো,- ‘খালু, কোরানে একটি সূরা আছে, সূরা আল ফাজর নামে। এই সূরার ৬ নম্বর আয়াতটি এরকম,- ‘তোমরা কি লক্ষ্য করো নি, তোমাদের পালনকর্তা ইরাম গোত্রের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?’
এই সূরা ফাজরে মূলত আদ জাতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। আদ জাতির আলাপের মধ্যে হঠাৎ করে ‘ইরাম’ নামে একটি শব্দ চলে এলো, যা কেউই জানতো না এটা আসলে কি। কেউ কেউ বললো, এটা আদ জাতির কোন বীর পালোয়ানের নাম, কেউ কেউ বললো, এই ইরাম হতে পারে আদ জাতির শারীরিক কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য, কারন, এই সূরায় আদ জাতির শক্তিমত্তা নিয়েও আয়াত আছে। মোদ্দাকথা, এই ‘ইরাম’ আসলে কি, সেটার সুস্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা কেউই দিতে পারেনি তখন। এমনকি, গোটা পৃথিবীর কোন ইতিহাসে ‘ইরাম’ নিয়ে কিছুই বলা ছিলো না।
কিন্তু, ১৯৭৩ সালে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি সিরিয়ায় মাটির নিচে একটি শহরের সন্ধান পায়।এই শহরটি ছিলো আদ জাতিদের শহর। সেই শহরে পাওয়া যায়, সুপ্রাচীন উঁচু উঁচু দালান। এমনকি, এই শহরে আবিষ্কার হয় তখনকার একটি লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরিতে একটি তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় তারা যেসকল শহরের সাথে বাণিজ্য করতো, সেসব শহরের নাম উল্লেখ ছিলো।আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই- সেই তালিকায় ‘ইরাম’ নামের একটি শহরের নামও পাওয়া যায়, যেটা আদ জাতিদেরই একটি শহর ছিলো। শহরটি ছিলো একটি পাহাড়ের মধ্যে। এতেও ছিলো সুউচ্চ দালান।
চিন্তা করুন, যে ‘ইরাম’ শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা এর পূর্বে তাফসিরকারকরাও করতে পারেনি। কেউ এটাকে বীরের নাম, কেউ এটাকে আদ জাতির শারিরীক বৈশিষ্ট্যের নাম বলে ব্যাখ্যা করেছে,
১৯৭৩ সালের আগে যে ‘ইরাম’ শহরের সন্ধান পৃথিবীর তাবৎ ইতিহাসে ছিলো না, কোন ভূগোলবিদ, ইতিহাসবিদই এই শহর সম্পর্কে কিছুই জানতো না, প্রায় ৪৩ শত বছর আগের আদ জাতিদের সেই শহরের নাম কিভাবে কোরান উল্লেখ করলো? যেটা আমরা জেনেছি ১৯৭৩ সালে, সেটা মুহাম্মদ সাঃ কিভাবে আরবের মরুভূমিতে বসে ১৪০০ বছর আগে জানলো? হাউ পসিবল? তিনি তো অশিক্ষিত ছিলেন।কোনদিন ইতিহাস বা ভূগোল পড়েন নি। কিভাবে জানলেন, খালু?’"
আরো মিথ্যা ইতিহাস। এই লেখাতে বর্নীত লাইনগুলি আদৌ সত্য কিনা, তা কেউ নেট সার্চ করে দেখবে না, সবডি অন্ধবিশ্বাসী চুতিয়া বলে। ১৯৭৩ সালের বর্নীত ঘটনাটি আদৌ ঘটেইনি। মিথ্যুকের মিথ্যাচার। আদ জাতির ইতিহাস, ইংলিশ উইকিপিডিয়ায় দ্রষ্টব্য। উইকি ও সমগ্র নেটের তাবৎ গবেষনা সাইটে ইরাম ও আদের ব্যাপারে এই জিওগ্রাফিক ঘটনার কোনো উল্লেখই নেই। এত মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে জাতি কি করবে?

প্যারাডকসিকাল সাজিদের জবাব-২

পেরা সাজিদ ২ নাম্বার চেপটারের জবাব। সবার প্রতি ওপেন চ্যালেঞ্জ এর চেয়ে উন্নততর জবাব তৈরির।
"সাজিদ বললো,- ‘স্যার, গত শতাব্দীতেও বিজ্ঞানিরা ভাবতেন, এই মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে আছে।মানে, এটার কোন শুরু নেই।তারা আরো ভাবতো, এটার কোন শেষও নাই।তাই তারা বলতো- যেহেতু এটার শুরু-শেষ কিছুই নাই, সুতরাং, এটার জন্য একটা সৃষ্টিকর্তারও দরকার নাই।
কিন্তু থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির সূত্রগুলো আবিষ্কার হওয়ার পর এই ধারনা তো পুরোপুরিভাবে ভ্যানিশ হয়ই,সাথে পদার্থবিজ্ঞানেও ঘটে যায় একটা বিপ্লব।থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির দ্বিতীয় সূত্র বলছে- ‘এই মহাবিশ্ব ক্রমাগত ও নিরবচ্ছিন্ন উত্তাপ অস্তিত্ব থেকে পর্যায়ক্রমে উত্তাপহীন অস্তিত্বের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।কিন্তু এই সূত্রটাকে উল্টোথেকে প্রয়োগ কখনোই সম্ভব নয়।
অর্থাৎ, কম উত্তাপ অস্তিত্ব থেকে এটাকে বেশি উত্তাপ অস্তিত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া আদৌ সম্ভব নয়।এই ধারনা থেকে প্রমান হয়, মহাবিশ্ব চিরন্তন নয়।এটা অনন্তকাল ধরে এভাবে নেই।এটার একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে।থার্মোডাইনামিক্সের সূত্র আরো বলে, – এভাবে চলতে চলতে একসময় মহাবিশ্বের সকল শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে।আর মহাবিশ্ব ধ্বংস হবে।’"
হা-রিপ চুতিয়া থারমোডাইনামিকসের ভুল সংগা শিখিয়ে মুমিন তৈরি করছে। কতবড় চুতিয়া। আসল সংগা জানতে english wikipedia তে second law of thermodynamics, thermodynamics লিখে তা পড়ে দেখা উচিত। সংক্ষেপে এটা বলা যায়, গর্বের সাথে যে মহাবিশ্ব উত্তাপ থেকে নিরুত্তাপে যাওয়ার কথাটা ১০০% ভুল। আসলে হচ্ছে মহাবিশ্বের এনট্রপির বৃদ্ধি। see entropy article.
কম উত্তাপ অস্তিত্ব থেকে বেশি উত্তাপ অস্তিত্ব কথাটা একেতো ভুল তার উপরে এই ধারনা থেকে কিভাবে প্রমান হয় যে মহাবিশ্ব চিরন্তন না এবং এর আদি ছিলো, তার উত্তরও সাজিদের কাছে নেই। মিথ্যাচার হলো মুমিনের প্রান। মহাবিশ্বের সকল শক্তি নিঃশেষ হবার কথাও থারমোডাইনামিকসে নেই এবং তাও ভুয়া।
‘এর থেকে প্রমান হয়, মহাবিশ্বের একটা শুরু আছে। মহাবিশ্বের যে একটা শুরু আছে- তারও প্রমান বিজ্ঞানিরা পেয়েছে। মহাবিশ্ব সৃষ্টি তত্বের উপর এ যাবৎ যতোগুলো থিওরি বিজ্ঞানিমহলে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, প্রমানের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী থিওরি হলো- বিগ ব্যাং থিওরি।বিগ ব্যাং থিওরি বলছে- মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে একটি বিস্ফোরণের ফলে।তাহলে স্যার, এটা এখন নিশ্চিত যে, মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে।’
এক নামবার চেপটারেও এই মিথ্যাচারটা করেছিলো হা-রিপ। প্রমান নেইকে প্রমান আছে বলে চালানো এবং এবার আরো বড় ব্যাপার, বিগ ব্যাং যেখানে আসলে ঘটলো মহাবিশ্বের সম্প্রসারন, সেটাকে চালাচ্ছে সৃষ্টি হিসাবে। আর সৃষ্টির ঘটনা "যদি" ঘটে থাকে, তা আল্লায় করলো নাকি কোয়েতজলোকাতোল করলো নাকি ব্রহমা করলো নাকি ইকচুতুলহু করলো, তাও বললো না। তবে গ্রেনেড মারমু যদি কস আল্লা ছাড়া অন্য কেউ বানাইছে। big bang in wikipedia, read to know real big bang.
"সকল সৃষ্টির একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে এবং শেষ আছে………… ধরি, এটা সমীকরণ ১।
মহাবিশ্ব একটি সৃষ্টি……….. এটা সমীকরণ ২।
এখন সমীকরণ ১ আর ২ থেকে পাই-
সকল সৃষ্টির শুরু এবং শেষ আছে।মহাবিশ্ব একটি সৃষ্টি,তাই এটারও একটা শুরু এবং শেষ আছে।
তাহলে, আমরা দেখলাম- উপরের দুটি শর্ত পরস্পর মিলে গেলো,এবং তাতে থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির সূত্রের কোন ব্যাঘাত ঘটে নি।
– ‘হু’
– ‘আমার তৃতীয় সমীকরণ হচ্ছে- ‘স্রষ্টা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।’
তাহলে খেয়াল করুন, আমার প্রথম শর্তের সাথে কিন্তু তৃতীয় শর্ত ম্যাচ হচ্ছে না।
আমার প্রথম শর্ত ছিলো- সকল সৃষ্টির শুরু আর শেষ আছে।কিন্তু তৃতীয় শর্তে কথা বলছি স্রষ্টা নিয়ে।তিনি সৃষ্টি নন, তিনি স্রষ্টা।তাই এখানে প্রথম শর্ত খাটে না।সাথে, তাপ ও গতির সূত্রটিও এখানে আর খাটছে না।তার মানে, স্রষ্টার শুরুও নেই, শেষও নাই।অর্থাৎ, তাকে নতুন করে সৃষ্টিরও প্রয়োজন নাই।তার মানে স্রষ্টার আরেকজন স্রষ্টা থাকারও প্রয়োজন নাই। তিনি অনাদি, অনন্ত।’"
সৃষ্টির ঘটনা আদৌ ঘটেছে কিনা, তার কোনো প্রমান দাখিল করলোই না, উল্টা মিথ্যাচার ও তার উপরে মিথ্যাচার যে স্রষ্টা অনাদি অনন্ত। তবে মহাবিশ্ব ও তার উপাদান অনাদি অনন্ত হইতে পারবেনা। আমি ভাত পাবো ডিমসহ, তুমি পাবানা, কেনো পাবানা, তা প্রশ্ন করলে মাইর। মুমিন ট্যাকটিক।
"– ‘স্যার, Laws Of Causality বলবৎ হয় তখনই, যখন থেকে Time, Space এবং Matter জন্ম লাভ করে, ঠিক না? কারন, আইনষ্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটিও স্বীকার করে যে- Time জিনিসটা নিজেই Space আর Matter এর সাথে কানেক্টেড।Cause এর ধারনা তখনই আসবে, যখন Time-Space-Matter এই ব্যাপারগুলা তৈরি হবে।তাহলে, যিনিই এই Time-Space-Matter এর স্রষ্টা, তাকে কি করে আমরা Time-Space-Matter এর বাটখারাতে বসিয়ে Laws Of Causality দিয়ে বিচার করবো,স্যার? এটা তো লজিক বিরুদ্ধ, বিজ্ঞান বিরুদ্ধ।’
লোকটা চুপ করে আছে। কিছু হয়তো বলতে যাচ্ছিলো। এরমধ্যেই আবার সাজিদ বললো,- ‘স্যার, আপনি Laws Of Causality’র যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, সেটা ভুল।’"
নিজে কজালিটির ভুল সংগা প্রচার করছে সত্য হিসাবে আর অন্যেরটাকে বলছে ভুল। মুমিনরাই বড় চুতিয়া। আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি এই পোস্টে বর্নিত কথাই বলেনি। আসল কথা হচ্ছে যে গতির সাথে সময়ের গতি কমা, স্থান কমার কথা। theory of relativity in wikipedia. আরো বড় কথা, এসবকিছুর স্রষ্টা যিনি, সেই স্রষ্টা, সৃষ্টির ঘটনার প্রমান না দিয়েই প্রশ্ন তুলছে যে যিনি স্রষ্টা তাকে বাটখাড়াতে বসানো উচিত হবে কিনা। আরে বাপু, বাটখারাতে বসানোর মালডা কই?

প্যারাডকসিকাল সাজিদের জবাব-১

২০১৬ সালের নভেম্বার মাসে তৎকালীন প্যারাডকসিকাল সাজিদকে কচুকাটা করেছিলাম আমি একাই। সেবার হা-রিপ সব কমেন্ট ডিলিট করে ব্লক দিয়া পলায়ন করে। তখন জানতাম না যে হা-রিপ এর পেরাসাজিদ একদিন এতবড় একটা ক্যানসারে পরিনত হবে। আজকে সেসময়ের করা মন্তব্য জবাবটি পোস্টে দেওয়া হলো। এটা ১ নামবার গল্পের জবাব এবং এপর্যন্ত পেরাসাজিদের বিরুদ্ধে যত জবাব আসার চেষ্টা করেছে, তাদের প্রায় সবারটার উপরে আমার এটি, প্রতিটা জবাবের শব্দ গুগলে সার্চ দিলে সাক্ষি হাজির এবং এটা আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ, সবার প্রতি, আমার জবাবকে ছাড়িয়ে যেতে। এবার শুরু হোক পেরাডকসিকাল সাজিদকে "পেরাডক্স" দিয়েই ধরা।
১ নামবার গল্পের লিংক কমেন্টে। পোস্টে গল্পের লাইনগুলো ধরে তার জবাব।
সাজিদ গল্পে "‘উনি বলেছিলেন, পৃথিবীই সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, কিন্তু সূর্য ঘোরে না। সূর্য স্থির। কিন্তু আজকের বিজ্ঞান বলে, – নাহ, সূর্য স্থির নয়। সূর্যও নিজের কক্ষপথে অবিরাম ঘূর্ণনরত অবস্থায়।’" লাইনটাই একদম মিথ্যুক কা মিথ্যাচার হোগায়া। কোপারনিকাস বলেছিলো সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরেনা, এতটুকুই। মুমিনরা মিথ্যুক বলে মিথ্যাচার করে যে কোপারনিকাস বলেছিলো সূর্য নাকি স্থির। কতবড় মিথ্যুক ইসলামি ধার্মিকরা!!!!
"আমি বললাম,- ‘ধর্ম বা সৃষ্টিকর্তার ধারনা/অস্তিত্ব হচ্ছে ঠিক এর বিপরীত। দ্যাখ, বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মধ্যকার এই গূঢ় পার্থক্য আছে বলেই আমাদের ধর্মগ্রন্থের শুরুতেই বিশ্বাসের কথা বলা আছে। বলা আছে- ‘এটা তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।’ (সূরা বাকারা,০২)।
যদি বিজ্ঞানে শেষ বা ফাইনাল কিছু থাকতো, তাহলে হয়তো ধর্মগ্রন্থের শুরুতে বিশ্বাসের বদলে বিজ্ঞানের কথাই বলা হতো। হয়তো বলা হতো,- ‘এটা তাদের জন্যই যারা বিজ্ঞানমনষ্ক।’
কিন্তু যে বিজ্ঞান সদা পরিবর্তনশীল, যে বিজ্ঞানের নিজের উপর নিজেরই বিশ্বাস নেই, তাকে কিভাবে অন্যরা বিশ্বাস করবে?’"
বিজ্ঞান একটা বিষয়, তথ্যের সমষ্টি। বিষয় বা তথ্যের সমষ্টি পরিবর্তন হয়, যেখানে মানুষ নিজের নামও বদলাতে পারে আর নামও তথ্য। কতবড় চুতিয়া হলে সেখানে মুমিন বলতে পারে যে তথ্য বদলায় বলে বিজ্ঞানে আস্থা রাখা যাবেনা কারন বিজ্ঞানের "নিজের উপরে বিশ্বাস নেই।" মুমিন মনে করে বিজ্ঞান একটি প্রানি। তবে ধর্মের উপরে বিশ্বাস রাখতে হবে কঠিন, তাও ৫২০০ ধর্মের মধ্যে ঐ একটাই কারন তারা সত্য। কেমনে সত্য? জিগাবি না, কতল কইরা দিমু।
"‘সৃষ্টিকর্তার পক্ষে অনেক প্রমান আছে, কিন্তু সেটা বিজ্ঞান পুরোপুরি দিতে পারেনা।এটা বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, সৃষ্টিকর্তার নয়।বিজ্ঞান অনেক কিছুরই উত্তর দিতে পারেনা। লিষ্ট করতে গেলে অনেক লম্বা একটা লিষ্ট করা যাবে।’" কতবড় চুতিয়া হলে বিজ্ঞান অনেক কিছুর উত্তর দিতে পারেনা, তার সাথে "সৃষ্টিকর্তার পক্ষে অনেক প্রমান আছে" মিথ্যাচার লাইন জুড়ে দিতে পারে। মুমিনরা এই লেখা পড়ে একবারও জিজ্ঞেস করবেনা যে সেই "অনেক প্রমান"গুলো কোথায়???? কোথায়???????!!!!!!!!!!!!!!!!
"আমি হাসতে লাগলাম। বললাম,- ‘আচ্ছা শোন, বলছি। তোর প্রেমিকার নাম মিতু না?’
– ‘এইখানে প্রেমিকার ব্যাপার আসছে কেনো?’
– ‘আরে বল না আগে।’
– ‘হ্যাঁ।’
– ‘কিছু মনে করিস না। কথার কথা বলছি। ধর, আমি মিতুকে ধর্ষণ করলাম। রক্তাক্ত অবস্থায় মিতু তার বেডে পড়ে আছে। আরো ধর, তুই কোনভাবে ব্যাপারটা জেনে গেছিস।’
– ‘হু।’
– ‘এখন বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা কর দেখি, মিতুকে ধর্ষণ করায় কেনো আমার শাস্তি হওয়া দরকার?’
সাজিদ বললো,- ‘ক্রিটিক্যাল কোয়েশ্চান। এটাকে বিজ্ঞান দিয়ে কিভাবে ব্যাখ্যা করবো?’
– ‘হা হা হা। আগেই বলেছি। এমন অনেক ব্যাপার আছে, যার উত্তর বিজ্ঞানে নেই।’
– ‘কিন্তু এর সাথে স্রষ্টায় বিশ্বাসের সম্পর্ক কি?’
– ‘সম্পর্ক আছে। স্রষ্টায় বিশ্বাসটাও এমন একটা বিষয়, যেটা আমরা, মানে মানুষেরা, আমাদের ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য প্রমানাদি দিয়ে প্রমান করতে পারবো না। স্রষ্টা কোন টেলিষ্কোপে ধরা পড়েন না।উনাকে অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়েও খুঁজে বের করা যায়না। উনাকে জাষ্ট ‘বিশ্বাস করে নিতে হয়।’"
হা-রিপ চুতিয়াটি এখন moral absolutism নামক একটি bullshit এবং false equivalence ফ্যালাসি টেনে এনেছে এখানে। দুইটা ব্যাপার যাদের মধ্যে সম্পর্ক নেই, তাদের মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে প্রচার যাকে বলে। আর চুতিয়াটি বলতে অক্ষম যে কেনো "জাস্ট বিশ্বাস করে নিতে হয়।" কেনো ৫২০০ টি ধর্মের মধ্যে মহাম্মকের পাঠানো হাওয়ার পুতদের জঙ্গিধর্ম ইসলামকেই মানতে হবে এবং ডিসি কমিকসের ফ্ল্যাশপয়েন্ট ২০১১ তে বিশ্বাস আনা যাবেনা।
"‘আচ্ছা, তোর বাবা-মা’র মিলনেই যে তোর জন্ম হয়েছে, সেটা তুই দেখেছিলি? বা,এই মূহুর্তে কোন এভিডেন্স আছে তোর কাছে? হতে পারে তোর মা তোর বাবা ছাড়া অন্য কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেছে তোর জন্মের আগে। হতে পারে, তুই অই ব্যক্তিরই জৈব ক্রিয়ার ফল।তুই এটা দেখিস নি।
কিন্তু কোনদিনও কি তোর মা’কে এটা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলি? করিস নি। সেই ছোটবেলা থেকে যাকে বাবা হিসেবে দেখে আসছিস, এখনো তাকে বাবা ডাকছিস। যাকে ভাই হিসেবে জেনে আসছিস, তাকে ভাই।বোনকে বোন।
তুই না দেখেই এসবে বিশ্বাস করিস না? কোনদিন জানতে চেয়েছিস তুই এখন যাকে বাবা ডাকছিস, তুই আসলেই তার ঔরসজাত কিনা? জানতে চাস নি। বিশ্বাস করে গেছিস।এখনো করছিস। ভবিষ্যতেও করবি। স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসটাও ঠিক এমনই রে।এটাকে প্রশ্ন করা যায়না। সন্দেহ করা যায়না। এটাকে হৃদয়ের গভীরে ধারন করতে হয়। এটার নামই বিশ্বাস।’

সাজিদ উঠে বাইরে চলে গেলো। ভাবলাম, সে আমার কথায় কষ্ট পেয়েছে হয়তো।
পরেরদিন ভোরে আমি যখন ফজরের নামাজের জন্য অযূ করতে যাবো, দেখলাম, আমার পাশে সাজিদ এসে দাঁড়িয়েছে।আমি তার মুখের দিকে তাকালাম।সে আমার চাহনির প্রশ্নটা বুঝতে পেরেছে। সে বললো,- ‘নামাজ পড়তে উঠেছি।’"
চুতিয়ার উপরে চুতিয়া। বাংলা সিনেমার কল্যানে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ "জন্মের পর যাকে বাপ বলে জানা, একদিন তাকে পালক বাপ হিসাবে আবিষ্কার করা, তারপরে বাজনার তালে আসল বাপকে "বাবাআআআআ" চিতকার দিতে দিতে খুজা" দেখতে দেখতে মগজ এমনই পচালো যে এটাও বুঝতে অক্ষম যে জন্মের পরে যাকে বাবা মা হিসাবে চিনা, তারা যে পালক হতে পারে এবং বাস্তবে অহরহ হচ্ছে, সেটা এড়িয়ে গেলো, যেনো বাস্তব জগতে তা ঘটেই না। শেষ লাইনে হা-রিপ তার কল্পনার ঘটনা যা তৈরি করলো, বাস্তব জগত হলে যা হতো
"সাজিদ এরপর আর হলে আসেনি। সে তার বাপ মার কাছে গিয়ে ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে চেক করতে যায় যে তারা তার আসল নাকি পালক।"

Friday, January 13, 2017

বিশ্বাস ও আস্থা প্রসঙ্গে

আগের লেখা "তথ্য ও শিক্ষণ প্রসঙ্গে" তে দেখিয়েছিলাম যে তথ্য কিভাবে তৈরি ও ছড়ায়, কিভাবে প্রমান ধ্বংসের চেষ্টা হয় মিথ্যা রক্ষনের জন্য, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।
মানুষসহ বিভিন্ন প্রানী যারা মগজভিত্তিক স্নায়ুব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন চিন্তা ও স্মৃতি তৈরি করতে সক্ষম, তারা যেহেতু মনের ভেতরে কি তৈরি হয়েছে, তা মন থেকে মনে পড়তে অর্থাৎ mind reading করার মতো ব্যবস্থা, প্রযুক্তি এখনো তৈরি করতে পারেনি, সেহেতু তাদেরকে সর্বনিকট সম্ভাব্য তথ্যপ্রকাশ ব্যবস্থা অর্থাৎ ভাষার উপরে নির্ভর করতে হয়। এই ভাষার রয়েছে বোধঅগম্যতা বা ambiguity এর সমস্যাটা, অর্থাৎ, ভাষার ব্যবহারকারী যা বলছে, মনে তাই আছে কিনা। জগতের ব্যবস্থায় সততা অর্থাৎ মনে যা আছে, ভাষাপ্রকাশে তাই প্রকাশ করার অভাবের কারনে বিভিন্ন প্রানীকে কথ্যভাষার পাশাপাশি চিহ্নভাষা অর্থাৎ sign language এর উপরে নির্ভর করতে হয়, যেমন আচরন, চেহারা, শরীরের ভঙ্গি, জীবনে নেওয়া বিভিন্ন কাজের উপরে নির্ভর করে মনের তথ্যকে জানার সবচেয়ে সম্ভাব্য চেষ্টাটা করা। এই চিহ্নভাষাতে আবার সমস্যা হচ্ছে যে এখানে আবার ভুল ফালানো হয় এবং কথ্যভাষায় মনের ভাব প্রকাশের চেয়ে বেশি পরিমানে, অর্থাৎ ভুল বোঝা। কিন্তু প্রানীসমাজগুলোতে সততা সহগ অর্থাৎ truth factor এর পরিমান হিসাবে নিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন প্রানী চিহ্নভাষার উপরে নির্ভরশীল এখনো শুধু এই সহগের পরিমানের কারনেই।

Friday, January 6, 2017

তথ্য ও শিক্ষণ প্রসঙ্গে

জগতে কোনো ঘটনা প্রানীকুল যেভাবে তার ইন্দ্রিয়গুলো দিয়ে অনুধাবন করে যেভাবে তার বর্ণনাযোগ্য অনুধাবন তৈরি করে, সেটাকে তথ্য/জ্ঞান বলে। জগতে সংঘটিত ঘটনসংখ্যা এবং তা থেকে সৃষ্ট অনুধাবনের সংখ্যা হিসাব করলে এটা প্রমান হয় যে তথ্যের পরিমান অসীম এবং প্রতিনিয়ত তৈরি হয়। তথ্য বিনিময়ের জন্য বিভিন্ন প্রানী তাদের প্রজাতিতে বিদ্যমান বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে থাকে যেটা সে প্রজাতির প্রানীরা বুঝতে সক্ষম হয়। কিছু প্রজাতির প্রানীরা জগতে স্বার্থের প্রয়োজনে মিথ্যা তথ্য অর্থাৎ যে তথ্য বাস্তবতার সাথে মিলেনা, সে তথ্যকে বাস্তবতার তথ্য হিসাবে প্রচার করার মতো বুদ্ধি অর্জন করার ফলে ঐসব প্রানীসমাজে মিথ্যাচারের প্রচলন ঘটে, অনুরূপভাবে মানুষের সমাজের ইতিহাসে মিথ্যাচারের প্রচলন ও বিস্তার ঘটে। কোন তথ্য সত্য আর কোন তথ্য মিথ্যা, সেটা ধরার জন্য তথ্যকে যাচাইকরামূলক অতিরিক্ত সংযোজিত তথ্য লাগে, যেটাকে প্রমান বলা হয়। সকল তথ্যের পিছনে জগতে প্রমান থাকা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব তথ্যসৃষ্টি ও বিস্তারের সূত্রমতে, আমি কোনো ঘটনার তারিখ ও ঘটনা ব্যাপারে যা বলছি, তা সত্য হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে এবং প্রমান হয়তো না থেকেই তা সত্য বা মিথ্যা হতে পারে। তথ্য দেওয়া ও নেওয়া অর্থাৎ পরিবহনের এই খাতে এই ব্যাপারটির সাথে সম্পর্কিত হিসাবে বিদ্যমান তথ্যের উপরে বিশ্বাসের ব্যাপার। যেহেতু মানবজাতির মধ্যে এখনো এমন কোনো দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়নি যার ফলে সে সত্য কথা বললে তার ঐ দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যটি পরিবর্তন হবে বা মিথ্যা বলে ঐ বৈশিষ্ট্যটি পরিবর্তন হবে, সেহেতু এখনো শুধু কথা দেখে বোঝার উপায় নেই যে কথাটি সত্য নাকি মিথ্যা এবং কথাটি শ্রোতা/দর্শক বিশ্বাস করেছে নাকি করেনি, পুরো ব্যাপারটাই মগজের ভেতরে এবং সচেতনভাবে হোক, অচেতনভাবে হোক, অধিকাংশ মানুষ ভাষাগতভাবে তার মনকে একদম ১০০% প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।

Sunday, December 4, 2016

সংবিধান প্রসঙ্গে

কোনো বস্তু (entity) যার উদাহরনের মধ্যে পড়ে ব্যক্তি, সমাজ, কোম্পানি, রাষ্ট্র, দল, সংস্থা এবং যেকোনো কিছু, তার নিজস্ব স্বভাব অর্থাৎ কোনটির পক্ষে সে, কোনটির বিপক্ষে সে, কোন ব্যাপারে কি কার্যনীতি (policy), তার সমষ্টিকে তার সংবিধান বলে। বস্তু তার সংবিধানের অগননীয় অংশ লেখা, কথা, প্রভৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে, যা নেটে ফোরাম ও ব্লগে খুব ভালো উদাহরন হিসাবে দেখা যায়, যেখানে লেখকরা বিভিন্ন ব্যাপারে তাদের কার্যনীতি, পক্ষ অবলম্বন প্রদর্শনী করে থাকে।

Friday, December 2, 2016

মজা ও আনন্দ প্রসঙ্গে

মানুষ মজা ও আনন্দ পাবার জন্য বিভিন্নজন বিভিন্ন জিনিস করে থাকে। মজা ও আনন্দ পাবার ব্যাপারগুলো, কে কিসে আনন্দ পায়, তা ব্যক্তি সাপেক্ষে ভিন্ন হয়ে থাকে। উদাহরন অসীম। মজা ও আনন্দের ভিন্নতার ক্ষেত্রে জগতে এমন মানুষ পাওয়া যায় যারা এই দুইটা এমনসব কাজে পেয়ে থাকে যেটা এই লেখার পাঠক তার নিজের প্রতি প্রচন্ডরকম ঘৃনা ও লজ্জার ব্যাপার হিসাবে দেখতে পাবে। মানুষের মধ্যকার মজা পাবার ব্যাপারের ভিন্নতার মধ্যে মানুষে মানুষে লড়াইও হয়, এই লড়াইও আবার কারো কারো কাছে মজা ও আনন্দের ব্যাপার হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট পরিবেশে বিদ্যমান মানুষ তার মজা ও আনন্দ নেবার জন্য কোন কোন কাজটি করতে পারবে এবং কোনটি করতে পারবেনা অর্থাৎ নিষিদ্ধ হিসাবে বিবেচিত হবে, সেটা পরিবেশের ভিত্তিতে আপেক্ষিক হয়ে থাকে এবং কোনো প্রমানই আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি যেটা দেখাতে পারবে যে নির্দিষ্ট কোনো পরিবেশের নিয়ম বা আইন "সঠিক" এবং অন্যগুলো "ভুল"।

Monday, November 28, 2016

সফটওয়্যার দিয়ে সাবটাইটেল তৈরির পদ্ধতি

এই লেখাটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত বাঙালি সমাজে বিদ্যমান সাবটাইটেল তৈরিকারক কোনো গ্রুপই সফটওয়্যার দিয়ে সাবটাইটেল তৈরির পদ্ধতি প্রকাশ করেনি। বিশ্বব্যাপী সাবটাইটেলকারক গ্রুপগুলোর মধ্যে সফটওয়্যার দিয়ে সাবটাইটেল তৈরি করাটা নোটপ্যাড দিয়ে তৈরি করার চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সাবটাইটেল তৈরি ও সম্পাদনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারের নাম এইজিসাব (aegisub)। সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে তা দিয়ে সাবটাইটেল ফাইল খুলে বা নতুন সাবটাইটেল ফাইল তৈরি করে সেভ করা যায়। সফটওয়্যারটি গ্রাফিকাল হওয়ার কারনে নোটপ্যাড দিয়ে এডিট এর চেয়ে অনেক সহজ এবং ফিচারসমৃদ্ধ হওয়ায় চেহারা দেখেই ব্যবহার শিখে ফেলা যায়।

Sunday, November 27, 2016

ইবুক-১

একই বিষয়ের তর্ক বারবার নতুন করে তৈরি না করে একটি ছাচ থেকে তৈরিকৃত তর্কগুলো প্রয়োগ করার জন্য আমার ইবুকটি যেটাতে আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সিদ্ধান্তগুলো লিখার কাজ চলছে। কপিরাইট রক্ষনের প্রমান হিসেবে ইবুক পোস্টগুলো তৈরি করা হলো।

সূচিপত্র+ভূমিকা
"জগতের বিভিন্ন বর্ণনা ও কথাকে সংক্ষেপ করার জন্য বড় বাক্য বর্ণনাগুলোর বিপরীতে বিকল্প ক্ষুদ্রশব্দ তৈরি করা হয়েছে ও এখনো তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ভাষার, বিভিন্ন গতিতে। ইংরেজী ভাষায় তৈরির গতি বর্তমানে সর্বোচ্চ।
জীবের মানসিকতার বিভিন্ন অবস্থা আছে, সাইকোলজিকাল স্টেট। এক একটি অবস্থাতে থাকা সময়ে অন্য অবস্থাটি সাধারনত অনুধাবন করা প্রায় অসাধ্য।
সেকেন্ড ওয়েভ সেক্স পজিটিভ ফেমিনিস্ট ও থার্ড ওয়েভ সেক্স নেগেটিভ ফেমিনিস্টদের মধ্যকার শত্রুতা ও দখলের লড়াই বর্তমানে বাঙালী সমাজে কঠোরভাবে হচ্ছে।
ক্রমাগত বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবের দুষ্টচক্র গৃহযুদ্ধ তৈরি করে।
আর্গুমেন্ট ফ্রম অথোরিটি এর ব্যবহার সর্বোচ্চ মাত্রায় করছে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নীতিবাদি ব্যক্তি ও সংঘগুলো।"

Sunday, October 9, 2016

ডিজিটাল বই অর্থাৎ ইবুক প্রকাশনা প্রসঙ্গে

কম্পিউটারের আবিষ্কারের ফলে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বপ্রকাশনা (self publishing) চালানো প্রচন্ড সহজ হয়ে পড়েছে কম্পিউটার পূর্ববর্তী যুগের তুলনায়। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হচ্ছে পিডিএফ, ইপাব, মোবি ফরম্যাটে বইয়ের ফাইল তৈরিকারী বিভিন্ন টুল যেমন acrobat, calibre, ghostscript, pdfcreator, dopdf, nitropdf ও বিভিন্ন ওয়েব কনভার্টারগুলো এবং পিডিএফ আপলোডকারী বিভিন্ন সাইট। বিভিন্ন বইশেয়ারিং সাইট আছে, তাদের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো বিবেচনা করে সঠিক সাইট বাছাই করাটা একটু কঠিনই হয়ে পড়ে, তবে পিডিএফের জন্য বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক রক্ষনকৃত (maintained) সাইট হচ্ছে pdf-archive.com । সাইটটি সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো সাইনআপ লাগেনা, সর্বোচ্চ পিডিএফ সাইজ একটি পিডিএফের জন্য ২ গিগাবাইট সাপোর্ট আছে।

Wednesday, October 5, 2016

প্যাসকেলের বাজি প্রসঙ্গে

ধর্মের পক্ষের "যুক্তি" হিসাবে ধার্মিকরা এই কথাটি নিয়ে আসে যে "যদি আপনি মারা যাওয়ার পরে দেখেন যে ধর্মটি সত্য, তাহলে লস, কিন্তু যদি দেখেন যে ধর্মটি মিথ্যা, তাহলে আপনি কোনো লসের শিকার হচ্ছেন না, তাই ধর্ম মানাই যৌক্তিক।" এই "যুক্তি"টাকে প্যাসকেলের বাজি বলে। এই "যুক্তি" এর ফাক, যেটা প্যাসকেল নিজেই ধরিয়ে দিয়েছিলো, তা হলো যে জগতে ধর্মের সংখ্যা এবং এক একটি ধর্মের মধ্যকার উপধর্মগুলো যেমন ইসলামধর্মের "শিয়া/সুন্নি/আহমাদি/...", হিন্দুধর্মের "ইসকনি/সনাতনি/....." এরকম বহু সংখ্যক। অধিকাংশ ধর্মের লেখনি অনুযায়ী, কোনো অধার্মিক এবং অন্যধর্মের বিশ্বাসী মৃত্যুর পরে শাস্তি যা পাবে তা প্রায় সমান। তো, আপনি যিনি মুসলমান, আপনি মৃত্যুর পরে যদি দেখেন যে আপনি আজ যে হিন্দুটিকে মালু বলে গালি দিচ্ছেন, তার কথাগুলোই সত্য, তাহলে....। একই কথা হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য, আর বাকি ধর্মগুলোর কথা বললে লেখা অনেক লম্বা হয়ে যাবে।